যুগে যুগে কুফর ও শিরক মানবজাতির সামনে উপস্থিত হয়েছে নানা চেহারা নিয়ে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর পৃষ্ঠপোষকতা আর নেতৃত্ব এসেছে সমাজের কর্তৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে। তাওহিদের দাওয়াহ এবং সকল ক্ষেত্রে এক আল্লাহ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়া বরাবরই ক্ষমতাসীনদের স্বেচ্ছাচারিতা আর স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর। নিজেদের ক্ষমতা, স্বার্থ আর আগ্রাসনের অধিকার বজায় রাখার উদ্দেশ্যে প্রত্যেক প্রজন্মের ক্ষমতাসীনরা তাই আল্লাহ তা’আলার দ্বীনের বিরোধিতা করে এসেছে।
তাওহিদের দাওয়াহ ও বাস্তবায়নকে প্রতিরোধের জন্য কাজে লাগিয়েছে সাধারণ মানুষের আবেগ ও অজ্ঞতাকে। নিজেদের লক্ষ্য হাসিলে কিংবা কর্মকাণ্ডের বৈধতা আদায়ে জনমানুষের সামনে প্রভু হিসেবে তুলে ধরেছে কখনো মূর্তি, কখনো চন্দ্র-সূর্য-গ্রহ-নক্ষত্রকে, কখনো আগুন বা পাথর, কখনো নবি বা ফেরেশতা, আবার কখনো বা সমাজের অনুসরণীয় ব্যক্তি কিংবা বা রাজাদের।
তাওহিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন দ্বীন-ধর্মের আবির্ভাব ঘটলেও, এক দিক থেকে স্থান-কাল-পাত্র নির্বিশেষে প্রতিটি মিথ্যা দ্বীনের সারনির্যাস একই। আর তা হল, সমাজের শক্তিশালী ব্যক্তিদের স্বেচ্ছাচারিতা আর বৈধতা আদায়। সে স্বেচ্ছাচারিতা হতে পারে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক ময়দানে, অথবা নিছক অবাধ ভোগবিলাসিতায়। এই উদ্দেশ্য আদায়ের জন্য মানুষকে ধোঁকা দিতে যুগে যুগে এই ক্ষমতাসীনরা তারা হাজির হয়েছে নানান চটকদার স্লোগান নিয়ে। আর এই শ্রেনীর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হল, বিশৃঙ্খলাকারী ও স্বেচ্ছাচারিদের ইমাম, আল্লাহদ্রোহীতা ও অহংকারের প্রতীকে পরিণত হওয়া—‘ফিরআউন’।
যার ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,
وَنَادَىٰ فِرْعَوْنُ فِى قَوْمِهِۦ قَالَ يَٰقَوْمِ أَلَيْسَ لِى مُلْكُ مِصْرَ وَهَٰذِهِ ٱلْأَنْهَٰرُ تَجْرِى مِن تَحْتِىٓ أَفَلَا تُبْصِرُونَ
“আর ফির’আউন তার সম্পপ্রদায়ের মধ্যে ঘোষণা করে বলল, ‘হে আমার সম্পপ্ৰদায়! মিসর রাজ্য কি আমার নয়? আর এ নদীগুলো আমার পাদদেশে প্রবাহিত; তোমরা কি দেখছ না?” (সূরা আয-যুখরুফ, ৪৩:৫১)
اَمۡ اَنَا خَیۡرٌ مِّنۡ هٰذَا الَّذِیۡ هُوَ مَهِیۡنٌ ۬ۙ وَّ لَا یَكَادُ یُبِیۡنُُ
“নাকি আমি এ ব্যক্তি (মূসা আঃ) হতে শ্রেষ্ঠ নই, যে হীন এবং স্পষ্ট কথা বলতেও প্রায় অক্ষম!” (সূরা আয-যুখরুফ, ৪৩:৫২)
فَاسۡتَخَفَّ قَوۡمَهٗ فَاَطَاعُوۡهُ ؕ اِنَّهُمۡ كَانُوۡا قَوۡمًا فٰسِقِیۡنَ َ
“এভাবে সে তার সম্প্রদায়কে বোকা বানাল, ফলে তারা তার কথা মেনে নিল ৷ নিশ্চয় তারা ছিল এক ফাসিক সম্প্রদায়।” (সূরা আয-যুখরুফ, ৪৩:৫৪)
ফিরআউন তার সম্প্রদায়কে বেওকুফ বানিয়েছিল উন্নতি ও প্রগতির প্রবঞ্চনাময় বুলি দিয়ে। একইভাবে প্রতি যুগে, প্রতিটি জাতির ফিরআউনরা সমাজের মানুষ ও সম্পদ শোষণের উদ্দেশ্যে চটকদার কথার আশ্রয় নিয়ে এসেছে। আর সাধারন মানুষ তা মেনে নিয়েছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই।
ঐতিহাসিক এ বাস্তবতা আজও বিদ্যমান। প্রায় তিনশো বছর আগে ইতিহাসের যে পর্যায়টি শুরু হয়েছিল ইউরোপের বিশ্বাসগত ও সামাজিক-রাজনৈতিক আমূল পরিবর্তনের ওপর ভর করে; যে চিন্তাধারা, সমাজ ও শাসনব্যবস্থাকে পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল ঔপনিবেশিক আগ্রাসনের মাধ্যমে—আধুনিকতার সেই কাঠামোর মধ্যেও সেই একই বৈশিষ্ট্য আমরা দেখতে পাই। অতীতের ফিরআউনের মতোই ফিরআউনের আধুনিক উত্তরসূরীরাও মানুষকে হিদায়েতের পথ থেকে বিচ্যুত করে শোষণ ও জুলুম চালিয়ে যাচ্ছে চটকদার বুলির আড়ালে। নতুন বোতলে মানবজাতিকে পুরনো মদ গেলানো হয়েছে, হচ্ছে।
গত আড়াইশো বছর ধরে ব্রিটিশ ও তাদের দালালেরা মুসলিমদের ন্যায়ের শাসন, নৈতিক প্রগতি, বিজ্ঞানবাদ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আর প্রযুক্তিগত উন্নতির বুলি শুনিয়েছে। আর এই বুলির আড়ালে মুসলিম সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করিয়েছে ভোগবাদ, পুঁজিবাদ, সেক্যুলারিজম, গণতন্ত্র, উগ্র জাতীয়তাবাদ আর সমাজতন্ত্রের মতো বিষাক্ত কুফরী মতাদর্শের।
ব্রিটিশ বেনিয়া চলে যাবার পর তাদেরই আদর্শ ও ব্যবস্থাপনাকে আজ চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে স্বেচ্ছাচারী জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক নেতা আর পুঁজিপতিরা। ফিরআউনের সম্প্রদায়ের মতো আধুনিক নাগরিকেরাও অন্ধ আনুগত্যে বেখেয়াল জীবন কাটাচ্ছে গালভরা বুলি আর ফাঁকা প্রতিশ্রুতিতে প্রলুব্ধ হয়ে মদমত্তের মতো। আদর্শ, মূল্যবোধ, আত্মত্যাগ বা উত্তম চরিত্রের গুরুত্ব, সবই মুছে গেছে। রয়ে গেছে কেবল শুকরের মতো ক্ষুধা আর কুকুরের মতো যৌনচাহিদা। আত্মমর্যাদাপূর্ণ মুসলিমদের অযোগ্য উত্তরসূরীরা পরিণত হয়েছে ব্যক্তিত্বহীন আত্মউপাস্যকে।
ব্যক্তিগত, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ময়দানের তথা জীবনযাত্রার প্রতিটি অঙ্গনে বিভিন্ন কুফর ও শিরকের একত্রীকরণ ঘটেছে যে নব্যদ্বীনের ছাতার নিচে; তার নাম—‘লিবারেলিজম’।
ইউরোপে ক্যাথলিক খ্রিস্টান পাদ্রী এবং রাজাদের রাজনৈতিক-সামাজিক স্থবিরতা, ব্যাপক জুলুম ও ব্যর্থতার প্রতিক্রিয়া হিসেবে শুরু হয় খ্রিস্টবাদের রিফর্মেশন আন্দোলন। জন্ম হয় প্রোটেস্ট্যান্ট মতবাদের। তারপর তিনশ বছরব্যাপী নানান ঘটনাপ্রবাহের ভেতর দিয়ে চলে ইউরোপের সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতির ধারাবাহিক বিবর্তন। ওয়েস্টফিলিয়া চুক্তি, গ্লোরিয়াস রেভ্যুলেশন, এনলাইটেনমেন্ট আন্দোলন, ফরাসি বিপ্লব, এশিয়া ও আফ্রিকায় কলোনি স্থাপন, শিল্প বিপ্লব ইত্যাদি পর্যায় পার হয়ে বিংশ শতাব্দীতে এসে পশ্চিমা বিশ্বে পূর্ণতা লাভ করে—“লিবারেলিজম” নামের এই নতুন দ্বীন বা জীবনদর্শন।
লিবারেলিজম বলতে বোঝানো হয়, একটি বৃহত্তর নৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দর্শনকে। যদিও, লিবারেলিজমের সূচনা খ্রিস্টানদের ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরোধিতা করতে গিয়ে, কিন্তু বাস্তবতা হল লিবারেলিজমে একসময় নিজেই একটি দ্বীনে রূপ নিয়েছে।
ভাই হামজা আব্দুর রহমানের বক্তব্য এখানে প্রাসঙ্গিক—
“লিবারেল ব্যক্তি যেসব মূল্যবোধকে পবিত্র মনে করে সেগুলোই চূড়ান্ত। নৈতিকতার মানদন্ড তৈরি হবে সমাজের স্বাধীন ব্যক্তিদের স্বাধীন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। অন্য সকল নৈতিকতা ও মূল্যবোধকে আধুনিক লোকদের ঠিক করা এই মূল্যবোধের আলোকে যাচাই করতে হবে।
দ্বীন ইসলাম বা অন্যান্য দ্বীনকেও যাচাই করতে হবে আধুনিক লোকদের বাছাই করা এই মূল্যবোধের আলোকে। কাজেই অধিকাংশ লোক কোন কিছুকে বৈধ বললে তা হবে বৈধ এবং অবৈধ বলে তা হবে অবৈধ। অধিকাংশরা কোন কিছুকে ভালো বললে ওটা হবে ভালো। মন্দ বললে হবে মন্দ।
বলাবাহুল্য লিবারেলিজম প্রভাবিত সমাজে অধিকাংশের চিন্তাভাবনা চালিত হয় ‘আধুনিকতা’র চিন্তাকাঠামোর ভেতরে। এই জীবনদর্শন কার্যত শাসনব্যবস্থা, রাষ্ট্র, ও সমাজ থেকে নৈতিকতাকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। ভালোমন্দ, ন্যায়-অন্যায়ের সকল বোধ জনপরিসর থেকে অপসারিত হয়। সেই জায়গা দখল করে ‘আধুনিক’ মূল্যবোধ।
লিবারেলিজমে তার নিজস্ব নৈতিকতা, মূল্যবোধ, শিল্প, ফ্যাশন, সাহিত্য, আইন এবং বিশ্বাসের মাধ্যমে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করে।”
বহু ‘মানব-দেবতা’র চিন্তার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই দ্বীনের সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্য বহু ঈশ্বরবাদী গ্রিক, রোমান কিংবা হিন্দু ধর্মের সাথে। এধরণের ধর্মে পরিভাষাগত ধোঁয়াশা ও জটিলতা, স্থান-কাল-পাত্র ভেদে ধর্মীয় রীতিনীতি নিয়ে মতভেদের পাশাপাশি আরও থাকে তীব্র পরস্পরবিরোধীতা। লিবারেলিজমের মধ্যেও এই বৈশিষ্ট্যগুলো দেখা যায়।
হিন্দু ধর্মে কোথাও দূর্গার পূজা হয়, কিন্তু ব্রহ্মার পূজা হয় না। কোথাও পার্বতীর পূজা হয় তো দূর্গার হয় না। হরিহরের হয়, কিন্তু সরস্বতীর হয়না। একইভাবে লিবারেলিজমের ক্ষেত্রেও, কেউ হয়তো জন লককে মানে, কিন্তু রুশোকে মানে না। কেউ কান্টের আনুগত্য করে তো, ডেভিড হিউমকে মানেনা। কেউ হয়তো ডারউইনকে মানে, কিন্তু ফ্রয়েডকে মানেনা। কেউ প্লেখানভকে মানে কিন্তু এডাম স্মিথকে মানে না। কেউ বাকুনিনকে মানে আবার মার্ক্সকে মানেনা।
তবে সাদৃশ্যের পাশাপাশি কিছু পার্থক্য আছে।
যেমন,
ক) হিন্দু ধর্মের মতো বহুউপাস্যবাদী ধর্মে মানুষের পাশাপাশি জ্বীন আর কাল্পনিক নানা স্বর্গীয় সত্তাকে দেবতাকে মানা হয়। লিবারেলরা কেবল মানুষকেই নিজেদের দেবতা মনে করে।
খ) নিজ ধর্ম ও দেবতাদের হিন্দু পুরোহিতরা ধর্ম ও দেবতা হিসেবেই স্বীকার করে। কিন্তু সর্বজনীন হওয়া এবং অন্যদের সহজে ধর্মান্তরিত করার উদ্দেশ্যে লিবারেলিজমের পুরোহিতরা তাদের দ্বীনকে দর্শন, বিজ্ঞান আর বাদ-মতবাদের নামে প্রচার করে। দেবতাদের উপস্থাপন করে দার্শনিক, বিজ্ঞানী, আর বুদ্ধিজীবি নামে।
গ) লিবারেলরা তাদের আদর্শকে খন্ডিতভাবে মানুষের সামনে পেশ করে। যাতে করে সম্পূর্ণ বাস্তবটা মানুষ বুঝতে না পারে। তাই লিবারেলিজমের যাজক ও অনুসারীরা লিবারেলিজম শব্দটির বদলে সাধারণত এর বিভিন্ন শাখাপ্রশাখা (যেমন—লিবারেলিজম, পুঁজিবাদ, সেক্যুলারিজম, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ইত্যাদি) নিয়ে আলাদা আলাদাভাবে আলোচনা করে থাকে। এজন্যই লিবারেলিজমের স্বরূপ বোঝা ও চিহ্নিত করা বেশ দুরূহ হয়ে থাকে।
লিবারেলিজমের ছাতার নিচে জমা হওয়া প্রতিটি মতবাদই কোন না কোন ভাবে তাওহিদ তথা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর অবস্থান ও দাবির সাথে সাংঘর্ষিক। অথচ এ মতবাদগুলো আজ মুসলিম সমাজে চেপে বসেছে। শিকড় প্রবেশ করিয়ে ফেলেছে মুসলিম মানসের গভীরে। তাই লিবারেলিজমকে কুফর, শিরক বা জাহেলিয়াত যা-ই বলা হোক; একথা সন্দেহাতীতভাবে বলা যায় যে—এটাই এ যুগের সবচেয়ে মারাত্মক ফিতনা।
লিবারেলিজমের মূলনীতিগুলো গ্রহণ করা বা এর ইসলামবিরোধী আকিদাগত মাযহাবগুলোর যে কোনো একটিতে ডুবে যাওয়া কোনো ব্যক্তি বা দলকে “লিবারেল” বলা হবে। আর লিবারেলিস্ট ব্যক্তি আদৌ ইসলামের সীমায় থাকতে পারে না।
হিন্দু ধর্মে দেবতার সংখ্যা নাকি তেত্রিশ কোটি। সংখ্যায় কোটি না ছাড়ালে প্লেটো, এরিস্টটল, ডেমোক্রিটাস থেকে নিয়ে হবস, স্পিনোজা, ডারউইন হয়ে ভিটগেনস্টাইন, এমস্কম্ব বা জন রলস; সব মিলিয়ে লিবারেলিস্ট দেবতাদের সংখ্যাও নেহায়েত কম না। এধর্মের শাখাপ্রশাখা ছড়াচ্ছেই, দেবতার সংখ্যাও বাড়ছে। বেড়ে চলেছে জ্ঞানপাপী, কৃত্রিমতাশ্রয়ী ‘আধুনিক’ ব্যক্তিদের তাত্ত্বিক ও প্রগলভ আলোচনাও। হালের পোস্ট-লিবারেলিস্ট দাবিদাররাও আদতে লিবারেলিজমেরই ফসল, যেমনটা ফরাসী দার্শনিক আল্যান টৌরেই তার Critique de la modernité বইয়ে তা উল্লেখ করেছেন।
তবে অগণিত শাখা-উপশাখা থাকলেও লিবারেলিজমের বাদ-মতবাদগুলো মূল শিকড় অভিন্ন। আর তা হল,
“অতীত থেকে চলে আসা প্রচলন (tradition) বা ধর্মের (বিশেষত, ইসলাম ও খ্রিস্টধর্ম) আনুগত্যের বদলে নতুনভাবে চিন্তা করা হবে।
পুরনো সকল কিছুই প্রত্যাখ্যাত হবে। সেগুলোর পক্ষে অভিজ্ঞতালব্ধ, ঐতিহাসিক কল্যাণ ও প্রমাণ মজুদ থাকলেও।
মানবীয় বিবেকবুদ্ধি এবং মানুষ ও সমাজের উদগ্র চাহিদার আলোকে পরিবর্তন ও প্রগতি চলবে, এবং নিরন্তর চলতেই থাকবে!”
[২]
লিবারেলিজম নামের আধুনিক এ দ্বীনের দেবতা, পাদ্রী ও অন্ধানুসারীরা যদিও যুক্তি ও বুদ্ধির অনুসরণের কথা বলে করে, কিন্তু বাস্তবে তারা শুধু ঐ সবকিছুর অনুসরণ করে, যা তাদেরকে পশুবৃত্তিক আনন্দ পৌছায়। তাদের জীবনের উদ্দেশ্য বা ভালো-মন্দ নির্ধারণের মূলনীতিই হচ্ছে, সম্ভাব্য সকল উপায়ে ভোগবিলাসিতার সর্বোচ্চকরণ (maximisation of pleasure) ।
মহান আল্লাহ বলেন,
وَاتَّبَعَ الَّذِينَ ظَلَمُوا مَا أُتْرِفُوا فِيهِ وَكَانُوا مُجْرِمِينَ
“আর সীমালঙ্ঘনকারী কেবল তারই অনুসরণ করে, যা তাদের আনন্দিত করে।” (সূরা হুদ, ১১:১১৬)
আমাদের দেশের স্বঘোষিত বিজ্ঞানমনস্ক ও মানবতাবাদীরা এই দ্বীনের দেবতা ও পশ্চিমা যাজকদের অন্ধ অনুকরণ করে মূলত নিজেদের পশুবৃত্তীয় চাহিদা আর খেয়ালখুশির বৈধতা আদায়ের জন্যে।
وَ تَرٰی كَثِیۡرًا مِّنۡهُمۡ یُسَارِعُوۡنَ فِی الۡاِثۡمِ وَ الۡعُدۡوَانِ وَ اَكۡلِهِمُ السُّحۡتَ ؕ لَبِئۡسَ مَا كَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ
“আর তাদের অনেককেই আপনি দেখবেন দৌড়ে গিয়ে পাপ, সীমালঙ্ঘন ও অবৈধ খাওয়াতে লিপ্ত হয়; তারা যা করে তা কতই না নিকৃষ্ট।” (সূরা আল-মা'য়িদাহ, ০৫:৬২)
সময় সাক্ষ্য দিচ্ছে, সেক্যুলার দেবতা বা লিবারেল যাজকেরা মানবাত্মা ও সমাজকে মুক্তি দিতে পারেনি। বরং ব্যক্তি থেকে সমাজ, সমাজ থেকে রাষ্ট্রে ছড়িয়ে গেছে ভ্রষ্টতা ও দূর্দশার মহামারী! দেবতা দানবে পরিণত হয়ে বিকৃতিকে নিয়ে গেছে অবক্ষয়ের অভূতপূর্ব মাত্রায়। লিবারেলিজম মানবজাতিকে উপহার দিয়েছে ইতিহাসের অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি সমকামিতা, শিশুকামিতা, পশুকামিতা, গর্ভপাত, লুন্ঠন, বৈষম্য, ধ্বংস আর গণহত্যা।
আলোচনার সংক্ষিপ্ত রাখতে, উদাহরণ হিসেবে কেবল লিবারেলিজমের উপহার ‘নারীবাদ’-এর ফলাফল তুলে ধরা হলো:’কালের কন্ঠ’ পত্রিকায় “ঢাকায় প্রতি ৩৮ মিনিটে ভাঙছে একটি বিয়ে” শীর্ষক প্রতিবেদনে উল্লেখিতঃ-
“ঢাকার দুই সিটির তথ্য বলছে, ৭৫ শতাংশ ডিভোর্সই দিচ্ছেন নারী। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে চার হাজার ৫৬৫টি বিচ্ছেদের আবেদন জমা পড়েছে, অর্থাৎ প্রতি মাসে এক হাজার ১৪১টি। গত বছর এই সংখ্যা ছিল এক হাজার ৪২। এই হিসাবে চলতি বছর প্রতি মাসে বেড়েছে ৯৯টি বিচ্ছেদ। গত বছরও নারীদের তরফে ডিভোর্স বেশি দেওয়া হয়েছে, ৭০ শতাংশ।
বিচ্ছেদের প্রবণতা শুধু ঢাকায়ই নয়, সারা দেশেই বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে ১৭ শতাংশ বিবাহবিচ্ছেদ বেড়েছে।”
এটি হল ভয়ংকর বাস্তবতার অতি ক্ষুদ্র এক খন্ড চিত্র। শুধু পূর্ব বাংলার ইতিহাসের দিকেও তাকালে এ কথা স্পষ্ট হয়ে যাবে যে বিগত আড়াইশো বছরে রাষ্ট্রীয় শোষণ, সামাজিক ও ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের যে মাত্রা এ অঞ্চল দেখেছে, তার তুলনা অন্য কোন সময়ে পাওয়া যায় না। কিন্তু, হাঁপিয়ে ওঠা বিধ্বস্ত মানবজাতির দীর্ঘশ্বাস মেরুর হিমশীতল বরফ গলিয়ে ফেললেও, পশ্চিমাদের উচ্ছিষ্টভোগী ‘বিজ্ঞানমনস্ক’ যাজক সম্প্রদায়ের অন্তরগুলো গলাতে পারেনি!
মিডিয়া, একাডেমিয়া আর সংসদে সওয়ার হয়ে, লিবারেলরা প্রতিনিয়ত নানা লেবেলের নতুন বোতলে প্রবৃত্তিপূজার পুরনো মদ মানুষের সামনে কাছে পরিবেশন করে যাচ্ছে। প্রোপাগান্ডা ও কৌশলে অভিভূত হয় ইসলামপন্থীরাও খেই হারিয়ে ফেলেছে। মানুষকে বুঝতে ও বোঝাতে অক্ষম হচ্ছে—
▪ ইসলাম বলে, “আনুগত্য কেবল আল্লাহ তা’আলার। বাকি সবার আনুগত্য আল্লাহ তা’আলার আনুগত্যের অনুগামী।”
▪ লিবারেলিজম বলে, “আনুগত্য কেবল প্রবৃত্তিপূজারী দার্শনিকদের ও পলিসিমেকারদের। আল্লাহ তা’আলার আনুগত্যও এসকল দার্শনিকদের অনুগামী!”
(লা হাওলা ওয়ালা কূওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ)
‘আধুনিক’ এই দীনের ব্যাপারেও হুকুম সেই একই, যা আগে থেকেই ছিল। আর তা হল—
ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন বা মতবাদ গ্রহণের অর্থই হল আল্লাহ তা’আলার আনুগত্য বর্জন ও বিদ্রোহ।
وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآَخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ
“কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো কবুল করা হবে না এবং আখিরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।” —(সূরা আলে ইমরান ৩:৮৫)
লিবারেলিজমের মায়াজালে আটকা পড়া আপামর মুসলিম জনতা, বিশেষত ইসলামপন্থীদের এও বুঝে নিতে হবে যে, ব্যক্তি, সমাজ বা রাজনৈতিক ময়দানে ইসলামকে আধুনিকতাবাদ দ্বারা প্রতিস্থাপনের অপরাধে—ডানপন্থী বা বামপন্থী সকল লিবারেলই অপরাধী। ভিন্নতা কেবল তাদের নিয়ত, সংকল্প, ক্ষেত্র ও মাত্রায়।
[৩]
লিবারেলিজমের ব্যাপকতা ও বিস্তৃতির পেছনে ভূমিকা আছে পশ্চিমাদের সামরিক উত্থান, ইসলামি জাতির অধঃপতন, ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও লুটপাট, স্থানীয় দালালদের স্বেচ্ছাসেবী ভূমিকাসহ বেশ কিছু বিষয়ের। এর মধ্যে অন্যতম একটি ফ্যাক্টর বা চলক হল—প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানে ইউরোপীয়দের ‘আকস্মিক’ উন্নতি। যদিও বাস্তবতা হল এ উন্নতি আকস্মিক ছিল না। এ উন্নতি ও শিল্প বিপ্লবের অনুঘটক হিসেবে সরাসরি ভূমিকা রয়েছে এশিয়া থেকে নগদ পাওয়া অঢেল অর্থ, কাঁচামাল ও প্রাচীন বিজ্ঞান-প্রযুক্তির (যেমন, চাইনিজ গান পাউডার, ইন্ডিয়ান মেডিসিন ইত্যাদি)।
ভারতীয় লেখক ও রাজনীতিবিদ শশি থারুর বলেন,
“তারা (পশ্চিমারা) আমাদেরকেই উল্টো অনগ্রসরতার জন্য দায়ী করে বলে যে, ‘আমাদের কোনো দোষ নেই, তোমরাই বরং শিল্পবিপ্লবের বাস ধরতে পারোনি।’
আমি বলি, ‘হ্যাঁ। কারণ তোমরা আমাদেরকে সেই বাসের চাকার নিচে ছুঁড়ে ফেলেছিলে।”
বস্তুগত ও প্রযুক্তিগত উন্নতির চোখধাঁধানো প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে পশ্চিমারা তাদের বিষাক্ত ও ছোঁয়াচে দর্শনের পাইকারি প্রচারে বেশ ভালোভাবেই সক্ষম হয়। এর পেছনে নিয়ামক ভূমিকা রাখে পশ্চিমা রাজনীতিবিদ, আমলা ও পুঁজিবাদী ব্যাবসায়ীরা। কিন্তু, একটি সহজ কিন্তু উপেক্ষিত বাস্তবতা হল, পশ্চিমা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতি আর ‘লিবারেলিজম’-এর মোড়কে উপস্থাপিত বর্বর পশ্চিমা দর্শন ও মতবাদ—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। একটি কার্যকর বলে অপরটিও কার্যকর, এটা একেবারেই ঢালাও ও বাতিল একটি দাবি।
রবার্ট বয়েলকে আধুনিক বিজ্ঞানের জনকদের অন্যতম মনে করা হয়। বয়েলের তীব্র সমালোচক ছিলেন পশ্চিমা দর্শন তথা লিবারেলিজমের প্রবাদ-পুরুষদের একজন থমাস হবস। থবসের বক্তব্য ছিল, ল্যাবরেটরিতে গবেষণা করে প্রকৃতি ও মহাবিশ্বের ব্যাপারে বাস্তবতা বোঝা গেলেও মানবীয় আচরণ বা প্রবণতার বাস্তবতা বোঝা সম্ভব না।
ব্রুনো লাতুর We Have Never Been Modern বইয়ে বলেন,
“Representation of things through the intermediary of the laboratory is forever dissociated from the representation of citizens through the intermediary of the social contract.”
“ল্যাবরেটরির পরীক্ষিত বস্তুর মাধ্যমে বস্তুজগতের প্রতিনিধিত্ব আর আর সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে নাগরিকে প্রতিনিধিত্বের মাঝে রয়েছে চিরন্তন তফাৎ।”
অর্থাৎ, পাহাড় থেকে একটি পাথর এনে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে বাইরের জগত সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব। ল্যাবরেটরিতে আনা পাথর যেভাবে বস্তুজগতের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব করতে পারে, আধুনিক রাষ্ট্র বা সমাজবিজ্ঞানে থাকা সামাজিক চুক্তির ধারণা, একইভাবে নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। বস্তু নিয়ে বিজ্ঞান আর সমাজ ও মানুষ নিয়ে তত্ত্বের মধ্যে আছে মৌলিক ফারাক।
কাজেই পশ্চিমাদের বানানো ফেসবুক ব্যাবহার করলে কিংবা তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার সিটি স্ক্যান করালে তাদের তত্ত্ব কিংবা নৈতিকতা মেনে নেয়ে সমকামিতা, শিশুকামিতা কিংবা উলঙ্গবাদিতা মেনে নিতে হবে; এটা খোদ সেক্যুলার যাজকরাই সঠিক মনে করেনা।
বাস্তবতা হলো অজ্ঞ, প্রবৃত্তিপূজারী, অন্ধানুসারী, অদূরদর্শী অথবা বিভ্রান্ত ব্যক্তি ছাড়া বোধসম্পন্ন কেউ লিবারেলিজমের স্রোতে গা ভাসায় না। বস্তুগত উন্নতির আর আত্মিক ও সামাজিক উৎকর্ষতাকে এক পাল্লায় মাপার মানেই হলো, নিজেকে জড়বস্তু বা পশুর স্তরে নামিয়ে নেয়া। নিজেদের বানরের বংশধর মনে করে যারা উল্লসিত হয়, তাদের জন্যে কোনো আক্ষেপ নেই। আক্ষেপ তাদের জন্য, যারা নিজেদের আদম (আ) এর সন্তান মনে করা সত্ত্বেও, বস্তু ও ব্যক্তি, পশু ও মানুষের পার্থক্য করতে ভুলে যায়।
মনে রাখতে হবে, প্রকৃত জ্ঞান হল তাওহিদ, মানবীয় গুণাবলী, সামাজিক শৃঙ্খলা ও আদল-ইনসাফের যথার্থতা নির্ণয়ের জ্ঞান। সৃষ্টির শুরু থেকেই এ কথা সত্য। আর এই জ্ঞানে যথাযথ প্রতিফলন ও উৎকর্ষ পাওয়া যায় নবিগণের (আ) মাধ্যমে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, আারামদায়ক বাসস্থান, অধিক খাওয়া, ব্যাপক যৌনতা, গভীর ঘুম, দামী পোশাক তথা দুনিয়াবি ভোগবিলাসের উপকরণ অর্জনে অগ্রগামী হওয়া কিংবা প্রতিযোগিতা করার জ্ঞান অপ্রয়োজনীয় না, কিন্তু নিঃসন্দেহে অপেক্ষাকৃত নিম্ন স্তরের।
‘ভোগবাদ’ তথা দুনিয়াবি ভোগবিলাসিতার সর্বোচ্চকরণকেই সফলতার মানদন্ড ধরলে, আধুনিক মানুষ আজও প্রাচীনদের যুগের ধারেকাছে পৌছাতে পারেনি। গত তিনশ বছরে এমন কোন আধুনিক ব্যক্তির দেখা কি মিলেছে, যার পারস্য সম্রাট পারভেজের মতো ১২,০০০ সুন্দরী রক্ষিতা ছিল?
আর মানুষ তো উইপোকার চেয়েও অদক্ষ নির্মাতা, কচ্ছপের চেয়েও ক্ষণজন্মা, আত্মরক্ষায় সেপিয়ার চেয়ে দুর্বল, তিমির চেয়ে কম খাদ্যগ্রহণকারী, খরগোশের চেয়ে কম যৌনসক্রিয়, সিংহের চেয়ে কম নিদ্রা উপভোগকারী, শুকরের চেয়ে কম নির্লজ্জ। সুতরাং পশুপাখির সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়া পশ্চিম ও প্রাচ্যের সেক্যুলারদের মানালেও, মুসলিমদের মানায় না। কিংবা আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন কোনো মানুষকেই মানায় না। এ কথা বুঝতে ও বোঝাতে হবে।
শরীয়াহ ও বাস্তবতার আলোকে আমাদের জানা ও বোঝা উচিৎ—
১) “ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন, রাষ্ট্রসহ সকল ক্ষেত্রে কেবল এক আল্লাহর নাযিলকৃত শরীয়তের আনুগত্য ও কর্তৃত্বই চলবে”—এই কথা বিশ্বাস করা, স্বীকৃতি দেয়া ও তদানুযায়ী আমল করাই হচ্ছে তাওহিদ! আর লিবারেলিজম তাওহিদের এই দাবিকে নাকচ করে।
২) পশ্চিমাপ্রভাবিত নব্য কলোনিয়াল শক্তি তথা সেক্যুলার গোষ্ঠীর সাথে আদর্শিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ময়দানে চলমান দ্বন্দ্বই এদেশে ইসলামপন্থীদের প্রধান দ্বন্দ্ব।
৩) লিবারেলিজম এবং এর মূলভিত্তিসমূহের (বিশেষত—ভোগবাদ, পুঁজিবাদ, সেক্যুলারিজম, জাতীয়তাবাদ),
ক) পরিচয় ও কুফরের ব্যাপারে জানা;
খ) এই কুফরকে প্রত্যাখ্যান এবং
গ) অসহযোগিতা ও প্রতিহত করা—আজ মুসলিমদের অপরিহার্য ও প্রাথমিক দায়িত্ব। যদিও বিগত দু শো বছর ধরে এ দায়িত্ব থেকেই অবহেলিত। ।
তাই, ইসলাম কায়েমে উম্মাহর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, দাঈ, ওয়ায়েজ, সংগঠক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, লেখক ও উলামায়ে কেরামের জন্য এক অপরিহার্য জিম্মাদারি হচ্ছে—
‘লিবারেলিজম’ এর কুফর ও ইলহাদের বিপক্ষে জোরালো অবস্থান গ্রহণ করা এবং উম্মাহকে তাওহিদের আকিদায় দীক্ষিত ও দিকনির্দেশ করা। এবং কোনোভাবেই এই মতবাদ ও মতবাদের পুরোধা, প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে আপোষ ও আঁতাত না করা।