শাইখ বলেন:
আমাদের কোন কোন ভাইয়ের থেকে কখনো তার অজান্তেই কিছু অনুচিত কাজ প্রকাশ হয়ে পড়ে। এসকল অনুচিত কাজের অন্যতম একটি হলো ভ্রাতৃত্ববোধের অবমূল্যায়ন। যেমন; দুই ভাইয়ের মাঝে কোন এক বিষয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তখন এক ভাই বিষয়টিকে এভাবে ব্যাখ্যা করছেন যে, 'কাজের জায়গায় কাজ আর ভ্রাতৃত্বের জায়গায় ভ্রাতৃত্ব। এই দুটি ভিন্ন জিনিস'।
অথচ তার এই বক্তব্য কোরআনের এই আয়াতের বিপরীত। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
هُوَ الَّذِي أَيَّدَكَ بِنَصْرِهِ وَبِالْمُؤْمِنِينَ
"অর্থঃ তিনিই আপনাকে শক্তি যুগিয়েছেন স্বীয় সাহায্যে ও মুসলমানদের মাধ্যমে”।
(সূরা আনফাল ৮:৬২)
আপনি দেখতে পাবেন যে, আল্লাহ তায়ালা এখানে তাঁর সাহায্যের সাথে মুমিনদেরকে যুক্ত করেছেন। আল্লাহ যেন বলছেন, নিশ্চয়ই মুসলিমদের বিজয় এবং শক্তি – তাদের মুমিন ভাইদের মাধ্যমেই অর্জিত হবে।
আমাদের এখানে তাওহীদের পতাকাবাহীদের মাঝে শয়তান আমাদের তাওহীদের পতাকার মাঝে ফাটল ধরানোর শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। তাওহীদবাদীদের ঐক্যের বিরুদ্ধে কোন চক্রান্তেই সে সফল হতে পারেনি। এখানে তাওহীদের অনুসারীদের দেখতে হবে যে, ঐক্যের মূলমন্ত্র কী? জাতীয়তাবাদের পতাকা না তাওহীদের পতাকা? জাতীয়তাবাদের পতাকা কখনোই ঐক্য ধরে রাখতে পারে না।
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐক্যের ভিত্তি স্থাপন করেছেন মসজিদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। মসজিদের মাধ্যমে তিনি আনসার ও মুহাজিরদের মাঝে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক স্থাপন করেছেন।
আমাদের একজন সম্মানিত, একনিষ্ঠ মুসলিম ভাই তার কাজকে সঠিক মনে করে অন্য ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বললেন যে, "ভাই! ভ্রাতৃত্ববোধ তো খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে আমি এই নীতি গ্রহণ করবো যে, ভ্রাতৃত্ববোধ এক জিনিস আর কাজ আরেক জিনিস। দুটির ক্ষেত্রে আচরণ ভিন্ন হবে"।
কিন্তু আমি বলবো: "হে ভাই! আপনি এ কথা বলবেন না যে, আমাদের কাজগুলো এই নীতির উপর ভিত্তি করে হতে হবে। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলেছেন: "তোমরা দুজন একে অন্যকে মেনে চল, পরস্পর বিরোধ করো না"।
তাই আমরা সকলেই আনুগত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবো এবং নিজেদের মধ্যে ছাড় দেয়ার মানসিকতা লালন করবো। মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধের উপর অটল থাকবো। এই সকল বিষয় আমরা সকলেই পালন করবো ইনশাআল্লাহ।
এসব সমস্যার মূল কারণ পশ্চিমা বিশ্ব-ব্যবস্থা। এই পশ্চিমারা আমাদের অজান্তেই আমাদের মাঝে এই শিক্ষা বিস্তার করে দিয়েছে যে, ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আমরা শতভাগ প্রাতিষ্ঠানিক মূলনীতি অনুসরণ করে চলবো। অথচ এই মূলনীতি অনেক আগেই তার কার্যকারিতা হারিয়েছে। তাই এখন অনেকেই এই মূলনীতি থেকে ফিরে আসছে।
এখন আপনি যদি এই আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আপনার ভাইয়ের সাথে কথা বলেন এবং তার সাথে লেনদেন করেন, তবে সে আপনার থেকে এমনিতেই দূরে সরে যাবে। অথচ উচিত হলো- আপনার এই ভাইকে ইসলামে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা।
আপনি হয়তো বিশুদ্ধ নিয়তে এই নীতি গ্রহণ করেছেন যে- ভ্রাতৃত্ববোধ এক জিনিস আর কাজ করা আরেক জিনিস। এই নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে হয়তো আপনার মূল লক্ষ্য ছিল - দ্বীনি কাজগুলো সঠিকভাবে আঞ্জাম দেয়া। কিন্তু বাস্তবে এধরণের কথা বলার দ্বারা পরস্পর রূঢ় আচরণের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
উদাহরণস্বরূপ আমরা আনসারদের সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণনীতি দেখতে পারি। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আনসারদের ভালো কাজগুলো গ্রহণ করা হবে আর তাদের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দেয়া হবে।"
ছোটদের স্নেহ করা এবং বড়দের ও মর্যাদাশীল ব্যক্তিদের সম্মান প্রদর্শন করার ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে: “তোমরা মর্যাদাবান ব্যক্তিদের ছোটখাটো পদস্খলনগুলো এড়িয়ে চল।”
এই বিষয়টি আপনাকে উপলব্ধি করতে হবে যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো মুচকি হেঁসে শাস্তি দিতেন। তাই আমি (শাইখ রিমি রহিমাহুল্লাহ) রাগান্বিত অবস্থায়ও রাসূলের মুচকি হাঁসির কথা ভুলিনি।
সুতরাং আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ করতে হবে। কেননা আমরা ইসলামের ধারক-বাহক।
আচ্ছা, আমরা এই দাওয়াতি কার্যক্রম কিভাবে পরিচালনা করবো?
মূলত দাওয়াতি কার্যক্রম একটি আন্দোলন। এটাকে আমরা প্রতিটি মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিবো। যেমনভাবে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দাওয়াত মানুষের মাঝে পৌঁছে দিয়েছেন, আমরাও ঠিক তেমনভাবে সকল মানুষের মাঝে এই দাওয়াত ছড়িয়ে দিবো ইনশাআল্লাহ।
কখনো একজন লোক এসে আপনাকে বলবে, "আপনার সম্পদ থেকে আমাকে কিছু দান করুন, যাতে আমি এই সম্পদের মাধ্যমে শাসকের দাম্ভিকতা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিতে পারি”। কিন্তু পরবর্তীতে সে শাসকের দাম্ভিকতা চূর্ণ করার কোন চেষ্টাই করেনি। তাহলে কি হলো? এটা হচ্ছে কাজ না করে শুধু শুধু প্রতিক্রিয়া দেখানো।
এই ধরণের বিভিন্ন পরিস্থিতি আসতে থাকবে। কিন্তু আপনি নিজেকে ধৈর্যের জন্য প্রস্তুত করুন। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলার মাধ্যমে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যান।
একমাত্র ইসলামের মাধ্যমেই আরবরা শক্তিশালী হবে যদিও আরবরা তা অস্বীকার করে। কিন্তু বাস্তবতা এটাই যে, তারা শুধু ইসলামের মাধ্যমেই শক্তিশালী হতে পারবে।
কেউ কেউ আপনাকে বলবে যে, 'আগুনে ঝাপ দিতে পারি কিন্তু লাঞ্ছনাকে মেনে নিতে পারবো না'। এমন কিছু লোক আছে যারা বলে যে, 'আমরা আগুন সহ্য করতে পারি কিন্তু লাঞ্ছনাকে বরদাস্ত করতে পারিনা'।
একমাত্র ইসলামই আরবদের উপকারে আসবে। ইসলাম ছাড়া কোন মূলনীতিই মানুষের কোন কাজে আসবে না। তাই আমাদের সকলের কর্তব্য হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিক-নির্দেশনা অনুসরণ করা।