এ ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো, এধরণের
লোক আমাদের দাওয়াতের উপযুক্ত স্থান। সুতরাং তাদের সাথে আমাদের দাওয়াতের পদ্ধতি বিষয়ে
সতর্ক থাকতে হবে। যদি আপনি কারো অপরাধ দেখে তার সাথে প্রথমেই আঘাতমূলক আচরণ করেন তাহলে
সে আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে। যখন আপনি কোন ব্যক্তির কাছে যাবেন এমতাবস্থায় যে, তার মাঝে
রয়েছে নানাবিধ সমস্যা, এমনকি মূর্তির প্রতি রয়েছে তার বিশেষ ঝোঁক; ধরে নিন তার মাথায়
বড় একটা মূর্তিও রয়েছে, আর আপনি এসেছেন এই মূর্তিগুলো ভাঙ্গতে, তাহলে আপনার থেকে তার
দাওয়াত গ্রহণ করা খুব কঠিন হয়ে যাবে। এমন হতেই পারে যে, সে আপনার দাওয়াত গ্রহণ করবে
না। আর তখন আপনি হক্বের বিষয়ে দাওয়াত দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক বনে যাবেন।
সুতরাং আবশ্যক হলো জামাতের সকল নিয়ম
নীতি অনুসরণ করে কথা বলা। আর আমাদের মূল উদ্দেশ্য তো হলো তাদেরকে কিতাবুল্লাহ, সুন্নাহ
ও সালফে সালিহীনদের মতের উপর এক করা এবং কুরআন সুন্নাহর দলিলের বাইরে শুধুমাত্র অমুক
শায়খের, তমুক আলেমের অনুসরণের সংকীর্ণতা থেকে
বের করে আনা। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কথা এবং সাহাবায়ে কেরাম, সালাফে সালেহীনের বক্তব্যের
দিকে ফিরিয়ে আনা।
এখন যদি আমরা তাদের কাছে গিয়ে প্রথমেই
বলি যে, ভাই! তোমার এই নেতা দ্বারা কোন ফায়দা নেই অথবা তোমার অনুসরণীয় অমুক ব্যক্তিটি
কাফের অথবা বিদআতি। এভাবে বলা শুরু করলে তো সে আর আপনার দাওয়াত গ্রহণ করবে না।
এ সকল বিষয়ের ক্ষেত্রে শায়খ আবু
আব্দুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ কাউকে দাওয়াত দেয়ার সময় সরাসরি সংগঠনের সমালোচনা করতেন না,
বরং সংগঠনের মাঝে যে সকল ভুল রয়েছে সেগুলো ধরিয়ে দিতেন। আর যেহেতু অধিকাংশ মানুষই বিপরীত
কোন দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের আদবের বিষয়টি লক্ষ্য করে, তাই শাইখকে কারো
বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি চুপ থাকতেন এবং বলতেন, বরং এর চেয়ে বড় সমস্যা নিয়ে কথা বলতেন।
তিনি আরো বলতেন, যখন অন্য কোন রাষ্ট্র
থেকে কেউ সাক্ষাত করতে আসে সাধারণত সর্বপ্রথম তাকে প্রশ্ন করা হয়, ‘আপনি কোথা থেকে
এসেছেন’? উদাহরণস্বরূপ সে হয়তো বললো, ‘সৌদি থেকে’। এখন তাকে যদি বলা হয় - বাদশাহ ফাহাদতো
কাফের। সে হতচকিত হয়ে উঠবে এবং বলবে, ‘আরে, ফাহাদ কাফের’!
অথবা আরেকজন হয়তো ইয়ামান থেকে এসেছে।
তাকে বলা হলো, ‘আলী আব্দুল্লাহ ইবনে সালেহ কাফের’। সেও হতচকিত হয়ে উঠবে এবং বলবে,
‘আরে সালেহ কাফের!?’। তো শায়খ বলেন; এই ধরণের আচরণ সীমালঙ্ঘন। কেননা এই আগত ব্যক্তি
একজন মুসলিম এবং সে সারা জীবন জেনে এসেছে এই লোকগুলোও মুসলিম।
অনেকের অবস্থা এমন যে সে কথায় কথায়
‘কালাল্লাহু, ক্বালা রাসুলুল্লাহ’ বলে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে সে এই ধাঁচে বেড়ে উঠেনি।
অথবা সে এটা বুঝানোর চেষ্টা করে যে, সে সরাসরি কুরআন সুন্নাহকেই অনুসরণ করে কোন ব্যক্তির
অনুসরণ করে না। অনেক মানুষই এমনটি করে, বিশেষ করে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এদের প্রকৃত অবস্থা হচ্ছে - এরা
ব্যক্তি ও কুরআন সুন্নাহর মাঝে সমন্বয় করতে পারে না। তাই যখন তাকে কুরআন সুন্নাহ থেকে
উদ্বৃতি দেয়া হয়, তখন সে বলে ওমুক শাইখতো এটা এভাবে বলেছেন। এমতাবস্থায় আপনি যদি তাকে
বলেন যে, ‘ওমুক তমুক বাদ দিয়ে আপনার উচিত কুরআন সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা, কেননা রাসুল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছাড়া সবার কথাই গ্রহণ ও বর্জন করা হয়’ - তখন আপনার ওমুক তমুককে
নিয়ে কথা বলাটা তার জন্য সত্য গ্রহণ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। কেননা
দ্বীন শিক্ষা দেয়া, আল্লাহর পথে দাওয়াত ও বিভিন্ন ইসলামী কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে অনেকেই
তাদের নেতা বা শাইখ নিয়ে সরাসরি সমালোচনা সহ্য করতে পারে না। তবে প্রাথমিক অবস্থায়
এই বিষয়গুলো মানুষ মেনে নিতে না পারলেও সময়ের সাথে সাথে এই অবস্থার পরিবর্তন হয়।
সুতরাং আমি বলবো বিদআতি এবং আমাদের
বিরোধীদের প্রশংসা এবং নিন্দার ক্ষেত্রে আমরা ইনসাফ করবো। তাদের মধ্যে যতটুকু হক্ক
রয়েছে সেটা বলবো, আর বাতিলটুকু রদ করবো ।
সুতরাং যখন আমরা মুসলিম যুবকদের
কিতাবুল্লাহ, সুন্নাহ এবং সালফে সালেহীনের রীতি-নীতির সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে দেবো
এবং তারা হক্ককে ভালোভাবে বুঝবে, তখন এই সকল প্রতীকগুলো এমনিতেই ধ্বংস হয়ে যাবে।
এমনিভাবে আমরা কোন কাজকে প্রত্যাখান
করতে চাইনা। কিন্তু কিছু কিছু মানুষের কাজ আপনিতেই প্রত্যাখ্যাত হয়ে থাকে। কেউ তাযিম
করতো অনুসরণীয় কিছু ব্যক্তিবর্গের, নেতাদের এবং মাশাইখদের। আর যখন স্পষ্ট হয়ে যায় যে,
এ সকল লোকেরা তাকে পথভ্রষ্ট করেছে এবং বাতিলেরে দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে, তখন তার কাছে
প্রত্যেক শাইখ, নেতা এমনকি সকলের কাজ-কর্ম প্রত্যাখ্যাত মনে হয়। এরপর দেখা যায় সে অতীতের
উলামাদের ব্যাপারে, হক প্রচারকারী আলেমদের ব্যাপারে, এমনকি এমন আলেমদের ব্যাপারে দুঃসাহস
দেখায় যাদের মাঝে অকল্যাণের চেয়ে কল্যাণ বেশি। সকলের উপর সে দুঃসাহস দেখায়। সে আপনাকে
বলবে, ‘বাদ দিন এসব আলিমদের কথা!
অবশ্যই
আমরা যখন তাকে অনুসরণীয় ব্যক্তিবর্গের তাযীম, ব্যক্তি পূজা এবং মাশাইখের পূজা থেকে
বের করবো, তখন সেক্ষেত্রে মধ্যমপন্থাটাই কাম্য। অর্থাৎ এ সকল ক্ষেত্রে কোন বাড়াবাড়ি,
ছাড়াছাড়ি করা যাবে না। এমন যেন না হয় যে সে সবাইকেই তুচ্ছ জ্ঞান করে। আবার সকলকে শ্রেষ্ঠও
না বানায়। অথবা অনুসরণীয় ব্যক্তিদের তাযীম করবে আর বাকি লোকদের ছেড়ে দিবে। এই বিষয়টি
এখানে টেনে এনেছি সতর্ক করতে, কেননা এ ক্ষেত্রে তা খুবই প্রয়োজনীয়। কারণ তারাই আমাদের
দাওয়াহর ক্ষেত্র।
নেতৃস্থানীয় লোকদের দাওয়াত দেয়ার
তুলনায় সাধারণ লোকদের দাওয়াত দেয়া সহজ। কেননা সাধারণ মানুষ কারো সাথে সম্পৃক্ত নয় বরং
সে স্বাভাবিক ফিতরাতের উপর থাকে। সুতরাং হক্ক বুঝাটা তার জন্য খুবই সহজ। অবশ্যই সে
তাৎক্ষণিকভাবে তা অনুসরণ করবে। কারণ তার কোন বাধা-প্রতিবন্ধকতা নেই। আর অমুক ভালো তমুক
ভালো জাতীয় কথা-বার্তায় তার মাঝে দ্বন্ধ তৈরি হয়। তাই হয়ত সে হেদায়াতপ্রাপ্ত হবে আর
আল্লাহ তাকে হেদায়াত দিবেন। ফলে আল্লাহ তায়ালার পছন্দ ও সন্তুষ্টি তার কাছে নিজের পছন্দ
ও সন্তুষ্টির উপর প্রাধান্য পাবে। অথবা বিপরীত দিকে উল্টে যাবে। ফলে তার কাছে তার নিজের
এবং তার শায়খ ও নেতৃবৃন্দের ভালোবাসা কিতাবুল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
সুন্নাহর উপর প্রাধান্য পাবে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি এই চিন্তা-চেতনা
আমাদের থেকে দূর করেছেন।