বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তার পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীগণের উপর।
হে ভাইয়েরা! মুসলিমরা আল্লাহর নিকট অনেক বড় জিনিস। একারণেই শরীয়তে তার সম্মানকে মহান করে বিধান রাখা হয়েছে। তাই তো শরীয়ত মুসলিমের ব্যাপারে গীবত, চোগলখোরি ও গুপ্তচরবৃত্তি করতে নিষেধ করেছে। এছাড়াও আরো অনেক বিধান, যেগুলো এই মুসলিমের সম্মান রক্ষা করার জন্য দেওয়া হয়েছে। হাদিসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
إِنَّ مِنْ أَرْبَى الرِّبَا الاِسْتِطَالَةَ فِي عِرْضِ الْمُسْلِمِ بِغَيْرِ حَقٍّ .
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, অন্যায়ভাবে কোন মুসলিমের মান-সম্মানে হস্তক্ষেপ করা ব্যাপকতর সুদের অন্তর্ভুক্ত (মহাপাপ)। [সুনানে আবু দাউদ-৪৮৭৬]
অর্থাৎ সবচেয়ে বড় সুদ হল মুসলিমের ইজ্জতের ব্যাপারে জবানদারাজি করা। জনৈক গোলাম হাতিবের (হাতিব ইবনে আবি বালতা’আ রাদিয়াল্লাহু আনহু) ব্যাপারে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলো হাতিবের ব্যাপারে অভিযোগ করতে। কিন্তু এই অভিযোগটি ছিল এক প্রকার জুলুম। যদিও হাতিব রাদিয়াল্লাহু আনহু এর পক্ষ থেকে এই গোলামের উপর জুলুম হয়েছিল।
কারণ সে গোলাম বলেছিল, “আল্লাহর শপথ! হে আল্লাহর রাসূল, হাতিব অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে”। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাথে সাথে বললেন: “তুমি মিথ্যা বলেছো। সে বদর ও হুদাইবিয়ায় অংশগ্রহণ করেছে”।
হাতিব রাদিয়াল্লাহু আনহু যদিও এই গোলামের উপর একটি জুলুম করে ভুল করেছেন, কিন্তু হাতিব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর ব্যাপারে আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্বেই কল্যাণের ফায়সালা হয়ে গিয়েছিল। তিনি বদরে ও হুদাইবিয়ায় অংশগ্রহণ করেছেন এবং রাসূলুল্লাহর সঙ্গে সমস্ত জিহাদগুলোতে অংশগ্রহণ করেছেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সারিতে যুদ্ধ করেছেন। প্রথম দিনেই দাওয়াত গ্রহণ করেছেন। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর উপর বেড়ে উঠেছেন, যৌবন লাভ করেছেন এবং পূর্ণ বয়সে পৌঁছেছেন।
তাই হতে পারে এই গোলাম ভুল করেছে বা তিনি এই গোলামের উপর অপরাধ করেছেন কিন্তু সে যখন রাসূলুল্লাহর নিকট অভিযোগ করতে আসল, তখন তিনি কী বললেন? বললেন: “তুমি মিথ্যা বলেছো। সে বদর ও হুদাইবিয়ায় অংশগ্রহণ করেছে”।
হাতিব রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন সেই বড় ভুলটি করেছিলেন, তথা রাসূলুল্লাহর গোপন তথ্য ফাঁস করে দিয়েছিলেন, তখন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন: “আমাকে বলুন। আমি এই মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দেই”। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওমরের কথা খণ্ডন করে বললেন: “সে তো বদরে অংশগ্রহণ করেছে। হয়ত আল্লাহ বদরীদের অন্তরের ব্যাপারে জেনে নিয়েছেন। তাই তাদেরকে বলে দিয়েছেন, “তোমরা যা ইচ্ছা তাই করতে পার, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি”।
ভাইয়েরা! নেতৃবর্গ, উমারা, উলামা ও অগ্রবর্তীদের ব্যাপারে কথা বলা- চাই তারা ভুল করুক না কেন, তা অবশ্যই ইনসাফের সাথে হতে হবে। তাই এটা সঠিক হবে না যে, একজন লোক একটি ভুল করলো যার ফলে তার সকল ভাল কর্মগুলো ভুলে যাওয়া হবে।
হাতিব রাদিয়াল্লাহু আনহু উক্ত গোলামের উপর জুলুম করার ক্ষেত্রে একটি ভুল করেছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাতিব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে সতর্ক করলেন। কিন্তু তিনি কি হাতিবের ব্যাপারটিকে মিডিয়ার স্ক্রিনে প্রচার করেছিলেন? হাতিব রাদিয়াল্লাহু আনহু তো নবীজির গোপন তথ্য ফাঁস করে দিয়েছিলেন। তো সেটা কি ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়েছিল?
যদিও তা একটি ভুল। একারণে আমাদের জন্য এটা জায়েয নয় যে, আমরা এই মুসলিমের বা এই মহান সাহাবীর ব্যাপারটি প্রচার করবো, যিনি রাসূলুল্লাহর সাথে সকল যুদ্ধগুলোতে অংশগ্রহণ করেছেন। সতর্ক করা হবে পরিমাণমত। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: “তোমরা মর্যাদাবানদের পদস্খলনগুলোকে গোপন রাখবে।”
কোনো ব্যক্তি আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্বে অনুগ্রহ পেয়েছেন, তারপর তিনি কোনো ভুল করেছেন বা ভুল ইজতিহাদ করেছেন, অথবা ব্যাখ্যা করেছেন – একারণে বড়দের পূর্বে ছোটদের পক্ষ হতেই তাকে নিন্দা করা হবে- এটা জায়েয নয়। এটা সঠিক হবে না। সম্প্রদায়ের সবচেয়ে ছোট বা নিচু লোকেরা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ বা শায়খদেরকে খণ্ডন করবে, এটা সঠিক নয়। অর্থাৎ অযোগ্য ব্যাক্তিরা যোগ্য ব্যাক্তিদের ভুল ধরবে, তাদের রায়কে খণ্ডন করবে- এটা সঠিক নয়। এখানে ছোট বা নিচু লোক দ্বারা উদ্দেশ্য অযোগ্য ব্যাক্তি।
অতএব আমরা কারো ভুলকেই গ্রহণ করবো না। কিন্তু সাথে সাথে উলামা, উমারাহ ও মাশায়েখদের ব্যাপারে আদাব রক্ষা করবো। প্রত্যেক অবস্থায়ই আদব জরুরী এ সকল বড়দের সাথে, চাই তারা ভুল করুক না কেন।
অর্থাৎ এক্ষেত্রে মুস্তাহাব হল, আপনি তার মর্যাদা রক্ষা করবেন। তার গোপন দোষসমূহ গোপন করবেন এবং তার ভুলগুলো ঢেকে রাখবেন। নিন্দা প্রচার করবেন না। ভুল এক বিষয়, আর নিন্দা প্রচার আরেক বিষয়। আহলে ইলমদের নিকট স্বীকৃত একটি মূলনীতি হল – জীবিত লোকদের ব্যাপারে ফেতনার আশঙ্কা থেকে নিরাপদ থাকা যায় না। যতদিন আপনি এই পৃথিবীতে থাকেন, আপনি যেই হোন না কেন, নিন্দা প্রচারকারী বা যার নিন্দা প্রচার করা হচ্ছে, উভয়েরই ভুল হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কে আছে নিরাপদ?
আপনি হয়তো অমুক জামাতের আমীরদের সমালোচনা এমনভাবে করেন যেন আপনার আমিরদেরকে আল্লাহ একেবারে নিরাপদ করে দিয়েছেন। তারা মনে হয় ভুল করেন না। নইলে কেন, যখন তাদের আমীরগণ ভুল করে, তখন তাদের ভুলগুলো গোপন করেন এবং তাদের বিষয়ে গোপনে কথা বলেন।
পক্ষান্তরে অন্যদের উমারাদের কি সম্মান বলতে কিছু নেই? এটা দ্বীনের ব্যাপারে এমন উদ্ভাবন, যার প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট নন। সুতরাং মর্যাদাবান, উলামা ও উমারাদের ব্যাপারে সমালোচনা হতে হবে আদাবের সাথে এবং বড়দের দিক থেকে। ছোটদের থেকে হতে পারবে না।
আপনারা দেখেছেন – অনেক সাহাবী নিজ ভাইয়ের গীবতের জবাব দিয়েছেন। নিজ ভাইয়ের ইজ্জতের পক্ষে জবাব দিয়েছেন। দেখুন কা’ব ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু তাবুক যুদ্ধে যাননি। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: কা’ব ইবনে মালিক কোথায়?
তখন জনৈক আনসারী বললেন: তার পার্শ্বদেশ তাকে ফিরিয়ে রেখেছে। এই বলে তিনি নিজ বুকের কোমলতার স্থানটির দিকে দৃষ্টিপাত করলেন। তখন মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: “তুমি মিথ্যা বলেছো। আল্লাহর শপথ! আমরা তার ব্যাপারে সর্বদা কল্যাণই জেনেছি”।
অর্থাৎ তিনি (মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহু) গীবতের খণ্ডন করলেন। সেই স্থানে, যেখানে কা’ব বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহর রাসূলের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়া থেকে পিছিয়ে থেকেছেন। গাযওয়ায়ে তাবুক পরিত্যাগ করেছেন। এই সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু তার পক্ষ থেকে গীবতের জবাব দিয়েছেন।
মানুষের সমালোচনা খুব স্পর্শকাতর বিষয়। আরো বেশি ভয়ংকর, যখন তা জ্ঞান ছাড়া হবে। ইনসাফ ছাড়া হবে। তখন সেটা জুলুম হবে। আর আরো বড় জুলুম হবে যখন এটা অগ্রবর্তী, উলামা ও উমারাদের ব্যাপারে হবে। এটা মন্দ শিক্ষা এবং শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ।
ছোট তালিবুল ইলমরা, ছোট মুজাহিদরা বা সাধারণ মুজাহিদরা বড় বড় উলামাদের ব্যাপারে সমালোচনামূলক কথা বলা অন্যায়। অথচ এই মুরুব্বিরা আল্লাহর পথে জিহাদের মধ্যে অনেক সময় পার করেছেন। কখনো কারাগারে কাটিয়েছেন। তারা ওই সময়ও আল্লাহর পথে জিহাদ করেছেন, যখন আমরা পৃথিবীতে অস্তিত্বই লাভ করিনি। অর্থাৎ আমাদের জন্মলাভেরও পূর্বে।
তারা আল্লাহর পথে দীর্ঘ জিহাদ করেছেন। অনেক পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন। তারপর জনৈক ছোট বা নিচু প্রকৃতির লোক এসে এসকল আলেমদের ব্যাপারে সমালোচনা করা শুরু করল। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
ভাইয়েরা, বিষয়টি বিপজ্জনক। অর্থাৎ আপনার কোন ভাইয়ের ব্যাপারে সমালোচনা করা। তাহলে যদি কোন আলেম বা এমন লোকের ব্যাপারে হয়, যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে অগ্রগামীতা লাভ করেছেন, তাহলে কেমন হতে পারে?
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الأَعْمَشِ، قَالَ سَمِعْتُ ذَكْوَانَ أَبَا صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم “ لاَ تَسُبُّوا أَصْحَابِي فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا أَدْرَكَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلاَ نَصِيفَهُ “
“আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিআল্লাহু তাআলা আনহু) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আমার সাহাবীদের তোমরা গালি দিও না। সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! তোমাদের কেউ যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও দান-খাইরাত করে তবে তা তাদের কারো এক মুদ বা অর্ধ মুদ দান-খাইরাতের সমান মর্যাদা সম্পন্ন হবে না”। (সূনান আত তিরমিজী – ৩৮৬১)
এই ব্যক্তি এসকল বাহাদুর ও বীরদের ব্যাপারে কথা বলছে, যারা আল্লাহর পথে পরীক্ষিত হয়েছেন, ধৈর্য ধারণ করেছেন এবং জিহাদ করেছেন। অত:পর আজ পর্যন্ত তার উপর অটল আছেন। তারপর জিহাদের নবাগত এক লোক এসে বড় বড় মুজাহিদিনের ব্যাপারে সমালোচনা করছেন। মুখভর্তি বড় বড় বিশাল বিশাল ফাতওয়া। সাহাবায়ে কেরামের বড় বড় ব্যক্তিগণ একে অপরের কাছে ফাতওয়া ঠেলে দিতেন। তাহলে আপনাদের অবস্থা কী?
মোটকথা, আল্লাহর নিকট মুসলিমের বিশেষ সম্মান আছে। একারণেই যিনার ক্ষেত্রে চারটি সাক্ষ্য লাগে, যারা সুরমাদানির মধ্যে কাঠি দেখেছে- যেমনটা উলামাদের থেকে বর্ণিত হয়েছে। তারা দেখেছে এই পদ্ধতিতে, সকলে একসাথে। যদি তিনজন দেখে, হবে না। অথচ তারা তিনজন। আর এটা যিনার মত গুরুতর অপরাধ। বিষয়টি অত্যন্ত ভয়াবহ, যিনা। তিনজনে হবে না, চারজন একসাথে দেখছে, এমন লাগবে, যারা সুস্পষ্ট ভাষায় সাক্ষ্য দিবে। এটা এই মুসলিমের সম্মান হেফাজতের জন্যই।
তাই হে ভাইয়েরা, উলামা ও উমারাদের ব্যাপারে কথা বলা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। উলামা, উমারা ও বড়দের ব্যাপারে শ্রদ্ধা, সম্মান ও মূল্যায়ন রাখতে হবে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি আরো বলেছেন: “তোমরা আমার নেতৃবৃন্দকে আমার কাছে ছেড়ে দাও। তোমাদের উপর রয়েছে তাদের শাসন করার ক্ষমতা, আর তাদের কাঁধে রয়েছে তোমাদের বোঝা।
মানুষের ব্যাপারে কথা অবশ্যই ইনসাফ ও ন্যায়ের সাথে হতে হবে।
শায়খ আবু মুহাম্মাদের একটি সুন্দর পুস্তিকায় এসেছে (আল্লাহ তাকে কারামুক্ত করুন), যার নাম হল- “ইনসাফ শ্রেষ্ঠদের অলংকার। আর শ্রেষ্ঠ লোক সর্বশ্রেণীর মধ্যে কম সংখ্যকই হয়”। খুব সুন্দর পুস্তিকা। অর্থাৎ আমাদের সর্বদা সেটার শরণাপন্ন হওয়া উচিত। আর এমনটা হওয়া উচিত নয় যে, কেউ ভুল করলেই আমরা তার খণ্ডন করবো এবং তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলবো।
আমাদের সাথে আমাদের অনেক আফগান ভাইগণ ছিলেন, যারা কখনো আমাদের সংগঠনের সদস্য বা আমাদের সংগঠনের সাথে ছিলেন না। শায়খ আবু খালিদ আস-সুরী রহিমাহুল্লাহ কখনোই আমাদের সংগঠনের সাথী ছিলেন না। শায়খ আবুল ওয়ালিদ আল-ফিলিস্তিনী আমাদের সংগঠনের নন, শায়খ আবু কাতাদাহ আল-ফিলিস্তিনী আমাদের সংগঠনের নন। আবু মুহাম্মদ আল মাকদিসি আমাদের সংগঠনের নন। এরকম আমাদের আরো অনেক ভাই ছিলেন।
আমরা তাদেরকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসতাম। তাদের সম্মান করতাম, শ্রদ্ধা করতাম, মূল্যায়ন করতাম। তারা সর্বদা আমাদের সাথে ছিলেন। আমাদের মাঝে সেই সাম্প্রদায়িকতা ছিল না, যেটা বর্তমানে দেখা যাচ্ছে। যদিও তাদের কারো কারো ব্যাপারে আমাদের কিছু আপত্তি ছিল। অর্থাৎ তাদের কারো কারো দৃষ্টিভঙ্গি আমরা গ্রহণ করতাম না। কিন্তু আমরা তাদেরকে শ্রদ্ধা করতাম, তাদেরকে সম্মান করতাম। তাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতাম, তাদের জন্য দু’আ করতাম। মহান আল্লাহ জানেন, যিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই, আমাদের বৈঠকগুলো সব সময় এদের সাথে হত। অথচ তারা কখনো আমাদের সংগঠনের মধ্যে ছিলেন না।
তাই এটা নিয়ম নয় যে, যেই আমাদের সঙ্গে থাকবে, আমরা তার সকল পদস্খলনগুলো ক্ষমা করে দিবো আর যে-ই আমাদের বিরোধী মত পোষণ করবে, তার সকল ভালোগুলো শেষ করে দিবো। এটা মন্দ। আল্লাহর নিকট জুলুম থেকে, সর্ববৃহৎ জুলুম থেকে পরিত্রাণ প্রার্থনা করি।
আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি আমাদেরকে এবং আপনাদেরকে জুলুম থেকে হেফাজত করুন। তিনি আমাদের গোপন বিষয়গুলো ঢেকে রাখুন, আমাদেরকে ভয়-আতঙ্ক থেকে নিরাপদ রাখুন। আমি আমার এই কথাটি আমার জন্য এবং সকল মুসলিমদের জন্য বলছি। আর আমার জন্য এবং সকল মুসলিমদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।