সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর, এবং তাঁর উপর শান্তি ও সালাত বর্ষিত হোক, তিনি ছাড়া আর কোনো নবী নেই।
দুনিয়াতে এমন কোনো নতুন ভাবনা নেই, এমন কোনো নতুন আবিষ্কার নেই-যার পতাকা বহনের জন্য একটি অগ্রগামী দলের (তালি'আহ) প্রয়োজন হয় না। এই দলটিকেই প্রথমে পথে নামতে হয়, সমাজের মধ্যে নিজেদের স্থান করে নিতে হয়, আর এই পথে বিপুল ক্ষতি ও ত্যাগ-তিতিক্ষা সহ্য করতে হয়।
দুনিয়াবি দর্শনই হোক, কিংবা আসমানি মতবাদই হোক-এমন কোনো আদর্শ নেই, যার বিজয়ের জন্য একটি অগ্রগ্রামী দল/ভ্যানগার্ড (তালি'আহ) দরকার পড়ে না। এই ভ্যানগার্ডকে তার সর্বস্ব বিলিয়ে দিতে হয়।
এরাই সেই পতাকা বহন করে নিয়ে চলে এক কষ্টকর ও অন্তহীন পথের শেষ প্রান্তে যতক্ষণ না বাস্তবে পূর্ণতা পায়। কারণ, আল্লাহই তো এমন ব্যবস্থা করে রেখেছেন যে, এই আদর্শকে প্রতিষ্ঠা পেতেই হবে, নিজেকে প্রকাশ করতেই হবে। এই অগ্রগামী দলটিই (তালি'আহ) হলো কাঙ্ক্ষিত সমাজের আসল ভিত (القاعدة الصلبة)
একটি আদর্শ ততদিন মৃতবৎ থেকে যাবে, যতদিন না তার জন্য আত্মোৎসর্গকারী অগ্রগামী দল তৈরি হচ্ছে। এই অগ্রগামী দলের কাজ হলো সেই আদর্শকে বিজয়ী করার জন্য নিজেদের সর্বস্ব বিলিয়ে দেওয়া।
যদি তারা না থাকে, তবে সেই আদর্শ-যদিও তা রাব্বুল আলামীনের কাছ থেকে এসে থাকে-আলো ও জীবনের মুখ দেখার আগেই বিলীন হয়ে যাবে।
এই আদর্শের পতাকা বহনকারীর মূলমন্ত্র হওয়া চাই আল্লাহর সেই কালাম:
قُلِ ادْعُوا شُرَكَاءَكُمْ ثُمَّ كِيدُونِ فَلَا تُنظِرُونِ ١٩٥
إِنَّ وَلِيَ اللَّهُ الَّذِي نَزَّلَ الْكِتَابَ وَهُوَ يَتَوَلَّى الصَّالِحِينَ ١٩٦
"বলুন: 'তোমরা তোমাদের দেব-দেবীদের ডাকো, আমার বিরুদ্ধে তোমাদের সর্বোচ্চ চক্রান্ত করো এবং আমাকে এতটুকুও অবকাশ দিও না। কারণ আমার অভিভাবক হলেন আল্লাহ, যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন (সময়ে সময়ে), আর তিনিই সৎকর্মশীলদের নির্বাচন করেন ও সাহায্য করেন।" (সূরা আল-আ'রাফ ১৯৫-১৯৬)
মাক্কী জীবনের তারবিয়াতে যেসব বিষয়গুলোর উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল আফগান জিহাদে মনোনিবেশ করার আগে সেগুলোর সম্পূর্ণ তাৎপর্য আমি ঠিক সেভাবে বুঝতে পারিনি। এখন তা আমার কাছে খুবই স্পষ্ট, সহজ ও দ্ব্যর্থহীন, সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর।
আমি এই বিষয়টির মূলে অনুসন্ধান করেছি এবং আবিস্কার করেছি:
দীর্ঘ আদর্শিক প্রশিক্ষণই হলো ইসলামী সমাজের ভিত্তি ও মূল কাঠামো, যা ছাড়া একটি ইসলামি সমাজের উত্থানের কোনো সুযোগ নেই।
আর যদি এই বোঝাপড়া ছাড়া কোনো সমাজ গঠিতও হয়, তবে তা হবে বালির ওপর গড়া ঘরের মতো-যা সামান্য ঝড়ে, এমনকি এক দমকা বাতাসেই ধসে পড়বে।
তাই আমি ইসলামি সমাজ নির্মাণের জন্য একটি অপরিহার্য ভিত্তির ধারণায় উপনীত হলাম:
পরীক্ষার আগুনের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠা একটি ইসলামি আন্দোলনের অস্তিত্ব ছাড়া ইসলামি সমাজের উত্থান সম্ভব নয়। এই আন্দোলনের কর্মীদেরকে কঠিন বিপর্যয়ের উত্তাপে পরিপক্ক হতে হবে। এই আন্দোলনই হবে সেই স্ফুলিঙ্গ, যা উম্মাহর শক্তিকে প্রজ্বলিত করবে। এবং এক দীর্ঘ জিহাদ শুরু হবে, যেখানে এই আন্দোলনই দেবে নেতৃত্ব ও আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনা।
এই দীর্ঘ জিহাদ মানুষের গুণাবলীকে সামনে নিয়ে আসবে এবং তাদের শক্তিকে ফুটিয়ে তুলবে। এটি তাদের অবস্থান নির্ধারণ করবে এবং দেখিয়ে দেবে তাদের নেতারা এই অগ্রযাত্রাকে নেতৃত্ব দিতে ও পরিচালিত করতে যথাযথ ভূমিকা গ্রহণ করেছে কি না। এই দীর্ঘ সংগ্রামের পর, আল্লাহ তাদের পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করবেন এবং তাঁর ক্ষমতার বাহ্যিক প্রকাশ হিসেবে কবুল করবেন ও তাঁর দ্বীনের বিজয়ের মাধ্যম বানাবেন।
মু'মিনদের এই দলটি দীর্ঘ প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাওয়ার আগে অস্ত্র বহন করাটা বিপজ্জনক কেননা অস্ত্রের বাহকরা তখন এমন দস্যুদলে পরিণত হবে, যা জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে এবং তাদের ঘুম কেড়ে নেবে।
পথ-প্রদর্শক অগ্রগামী দলের প্রশিক্ষণের প্রধান নির্দেশিকাগুলো হলো:
১. তাদের অবশ্যই কঠিনতম পরীক্ষার আগুনে এবং ভয়ঙ্কর বিপদের তরঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
২. প্রশিক্ষণদাতা নেতৃত্বকে তাদের সাথে বিপদ, ঘাম এবং রক্তের মধ্য দিয়ে পথ চলতে হবে। নেতৃত্বে থাকা লোকেরা এমন হবে যেন সে এক মা মুরগী, যার ছানারা ডিম ফোঁটার ও প্রশিক্ষণের দীর্ঘ সময়ে তার ডানার নিচে বড় হয়ে ওঠে।
৩. এই অগ্রগামী দলকে অবশ্যই সস্তা জাগতিক আনন্দ থেকে দূরে থাকতে হবে এবং তাদের মধ্যে কঠোর সাধনা ও মিতব্যয়িতার স্পষ্ট ছাপ থাকতে হবে।
৪. তাদের আদর্শের প্রতি থাকতে হবে অটল বিশ্বাস ও দৃঢ় প্রত্যয়, এবং তাদের অন্তর পূর্ণ থাকবে বিজয়ের আশায়।
৫. এই পথে চলতে থাকার জন্য একটি দৃঢ় সংকল্প ও অধ্যবসায় থাকতে হবে, পথ যত দীর্ঘই হোক না কেন।
৬. এই যাত্রার উপকরণ গুলোর মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো এই যাত্রার পাথেয়গুলো।
এবং এই যাত্রার পাথেয়গুলো হলো: নফল ইবাদত, সবর ও সালাত (নামাজ)।
৭. আনুগত্য ও একনিষ্ঠতা
৮. [এই অগ্রগামী দলকে] সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ইসলাম-বিরোধী ষড়যন্ত্রগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে।
দীর্ঘ প্রশিক্ষণের কারণসমূহ
এই দীর্ঘ প্রশিক্ষণের কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে:
১. দীর্ঘ ত্যাগের সময়কাল এবং এই দীর্ঘ পথে সম্মুখীন হওয়া বিশাল মূল্য ও ক্ষয়ক্ষতির কারণে সহজেই হতাশা ও নিরাশা গ্রাস করতে পারে। এই গভীর প্রশিক্ষণই এই অভিযাত্রার জন্য একটি নিরাপদ ভিত্তি প্রদান করে, যা হতাশাকে রুখে দেয়।
২. পথের সর্বত্রই প্রলোভন থাকবে এবং দলকে পথচ্যুত করার চেষ্টা করা হবে। কিন্তু যখন বিজয় কাছাকাছি চলে আসবে, তখন এই ধরনের প্রস্তাব এবং পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা আরও তীব্র হবে। তাই নেতাদেরকে অবশ্যই অবিচল হতে হবে।
৩. যদি আল্লাহ এই নেতৃত্বকে পৃথিবীতে সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেন, তবে এটি আমাদের সমৃদ্ধির দিকে পরিচালিত করবে এবং মুসলিম জাতির সম্পদ, সম্মান ও পবিত্রতার উপর প্রহরী হবে। যদি এই নেতৃত্ব আমানতদার না হয়, তবে মুসলিম উম্মাহর উপর আল্লাহ রহম করুন।
প্রথম প্রজন্মের জন্য নবি (সাঃ) এর প্রশিক্ষণ
উপরে উল্লিখিত আটটি উপাদান নবি (সাঃ) এর গড়ে তোলা প্রথম প্রজন্মের সাহাবীদের (রাঃ) প্রশিক্ষণে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল। এই কারণেই, যখন পুরো [আরব] উপদ্বীপ দ্বীন ত্যাগ করছিলো (মুহাম্মদের (সাঃ) মৃত্যুর পর), তখন এই সুদৃঢ় ভিত্তিটি উঠে দাঁড়িয়েছিল এবং পুরো উপদ্বীপকে আবার ইসলামের দিকে ফিরিয়ে এনেছিল।
১. পরীক্ষার অনিবার্যতা
কোনো মিশনই পরীক্ষার উপাদান থেকে মুক্ত হতে পারে না:
"আপনার পূর্বে বহু রাসূলকে মিথ্যা বলা হয়েছে, তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন ও নির্যাতিত হওয়া সত্ত্বেও ধৈর্য ধারণ করেছেন, অবশেষে তাদের কাছে আমার সাহায্য পৌঁছে গেছে। আল্লাহর বাণী পরিবর্তনযোগ্য নয়। আর অবশ্যই পূর্ববর্তী রাসূলদের সংবাদ আপনার কাছে এসেছে।"
(সূরা আল-আন'আম, আয়াত ৩৪)।
আল্লাহর এই বাণী, "আল্লাহর বাণী পরিবর্তনযোগ্য নয়," এর অর্থ হলো এটি সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়ম যা জগতের ঐশী নিজামের অন্তর্ভুক্ত যা কখনো পরিবর্তন হয় না।
ইমাম শাফেঈ (রহঃ) কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: এই দুটির মধ্যে কোনটি উত্তম, মানুষকে কর্তৃত্ব দেওয়া হবে নাকি সে নির্যাতিত হবে? তিনি উত্তর দেন: নির্যাতিত না হলে তাকে কর্তৃত্ব দেওয়া হবে না।
বুখারী ও অন্যান্য সূত্রে খাব্বাব ইবনে আল-আরাতের হাদীস রয়েছে:
"আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কোন বিষয়ে অভিযোগ পেশ করলাম। তখন তিনি কা'বা ঘরের ছায়ায় তাঁর চাদরকে বালিশ বানিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। আমরা বললাম, (আমাদের জন্য কি) সাহায্য চাইবেন না? আমাদের জন্য কি দু'আ করবেন না? তিনি বললেনঃ তোমাদের আগের লোকদের মাঝে এমন ব্যক্তিও ছিল, যাকে ধরে নিয়ে তার জন্য যমীনে গর্ত করা হত। তারপর করাত এনে মাথায় আঘাত হেনে দু' টুকরা করে ফেলা হত। লোহার শলাকা দিয়ে তার মাংস ও হাড্ডি খসানো হত। তা সত্বেও তাকে তার দ্বীন থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারত না।
আল্লাহর কসম! এ দ্বীন অবশ্যই পূর্ণতা লাভ করবে। এমন হবে যে সান'আ থেকে হাযরামাওত পর্যন্ত ভ্রমণকারী ভ্রমণ করবে। অথচ সে আল্লাহ্ ছাড়া কাউকে ভয় করবে না এবং নিজের মেষ পালের জন্য বাঘের ভয় থাকবে, কিন্তু তোমরা তাড়াহুড়ো করছ।"
বিপদ-আপদ আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে, মনকে পরিষ্কার করে এবং অন্তরকে ময়লা ও আবর্জনা থেকে পবিত্র করে, আর এটাই সহীহ হাদীসে এসেছে:
"যে মুমিন কষ্ট বা জ্বরে ভোগে, সে লোহার টুকরার মতো। তুমি যদি একে আগুনে দাও, তবে এর অনাবশ্যক উপাদানগুলো পুড়ে যাবে, আর ইস্পাত খাঁটি থাকবে।"
বিজয় যত কাছাকাছি আসে, বিপদ-আপদ তত কঠিন হয়।
"জেনে রাখো, সাহায্য আসে ধৈর্যের সঙ্গে, কষ্টের পর আসে মুক্তি, আর কষ্টের সাথেই থাকে স্বস্তি।"
বুখারীতে আমরা পড়ি:
"নবিরাই সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার সম্মুখীন হন, এরপর তাদের মতো যারা, যারা তাদের সবচেয়ে বেশি অনুসরণ করে। একজন মানুষকে তার ঈমানের দৃঢ়তা অনুযায়ী পরীক্ষা করা হবে। যদি তার ঈমান শক্তিশালী হয়, তবে সে আরও কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাবে, আর যদি সে তার ঈমানে ততটা দৃঢ় না হয়, তবে তাকে তার ঈমানের মাত্রা অনুযায়ী পরীক্ষা করা হবে। আল্লাহর বান্দা বিপদ-আপদে থাকে যতক্ষণ না সেগুলি তাকে এমনভাবে ছেড়ে দেয় যে সে পৃথিবীতে পাপমুক্ত হয়ে চলতে পারে।"
২. দুনিয়াবিমুখতা
দুনিয়াবিমুখতা আসে দুনিয়ার জীবনের প্রকৃত অবস্থা অনুধাবন থেকে এবং আখেরাতের সামনে এই দুনিয়ার ক্ষুদ্রতার উপলব্ধি থেকে আসে:
"আখেরাতের তুলনায় এই দুনিয়া এমন, যেমন তোমাদের কেউ তার আঙুল সমুদ্রে ডুবিয়ে দিল। আঙুল তোলার পর যা লেগে থাকে, এটাই হলো এই দুনিয়া।" সহীহ মুসলিম
"যদি আল্লাহর দৃষ্টিতে এই দুনিয়ার মূল্য একটা মশার ডানার সমানও হতো, তবে তিনি কোনো কাফেরকে এক ঢোঁক পানিও পান করতে দিতেন না।" ইবনে মাজাহ
এই দুনিয়ার মূল্যহীনতা থেকেই আসে দুনিয়া বিমুখতা:
"জাগতিক জিনিসপত্রের প্রতি আনন্দ ত্যাগ করো, আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসবেন, আর অন্য মানুষের হাতে যা আছে তার প্রতি অনাসক্ত থাকো, মানুষ তোমাকে ভালোবাসবে"- ইবনে মাজাহ
দুনিয়া থেকে বিমুখ মানুষকে অন্যের কাছে সাহায্য চাইতে হয় না। এটি সম্মান এবং আত্মনির্ভরশীলতা নিয়ে আসে। সহীহ হাদিসে আমরা পাই:
"জেনে রাখো, মুমিনের মর্যাদা নিহিত আছে রাতে (নামাজে) দাঁড়ানোর মধ্যে, আর তার সম্মান নিহিত আছে মানুষের মুখাপেক্ষী না হওয়ায়।" বায়হাকী
নবি (সাঃ) সর্বদা তাঁর অনুসরণকারীদেরকে মানুষের উপর নির্ভরশীল না হতে, মানুষের কাছে কিছু না চাইতে উপদেশ দিতেন। সহীহ হাদিসে এসেছে:
"মানুষের কাছে কোনো কিছুর প্রয়োজন রেখো না, এমনকি তোমার দাঁত পরিষ্কার ও স্বচ্ছ করার ক্ষেত্রেও।"
এই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নবি (সাঃ) তাঁর কয়েকজন সাহাবীর কাছ থেকে শপথ নিয়েছিলেন যে তারা কখনও কারো কাছে কিছু চাইবেন না। এটা এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে ঘোড়ায় থাকা অবস্থায় তাদের একজনের হাত থেকে চাবুক পড়ে গেলে, তিনি অন্য কাউকে তুলতে বলার পরিবর্তে নিজেই ঘোড়া থেকে নেমে সেটা তুলে নিতেন।
প্রাচুর্য হলো সবচেয়ে বড় দুর্বলতা যা জাতিদের গ্রাস করে, তাদের সন্তানদের নষ্ট করে এবং তাদের অস্তিত্বকে দুর্বল করে দেয়।
একটি সাধারণ এবং সীমিত জীবনযাত্রা হলো জিহাদের জন্য একটি অপরিহার্য প্রেরণা। সংযম হলো জিহাদের মূল ভিত্তি।
আমরা দেখতে পাই যে নবিদের (আঃ) বেশিরভাগ সঙ্গী ছিলেন দরিদ্রদের মধ্যে থেকে।
বিলাসিতা ও সম্পদের পিছনে ছোটা থেকে বেশি আর কী মানুষের মেরুদণ্ড ভাঙে?! এই কারণেই মানুষ সর্বদা তার বেতন, তার চাকরি এবং তার ভোগ বিলাসের জন্য ভীত থাকে। প্রতিবার বেতন বাড়লে, অফিসার তার চাকরির প্রতি আরও বেশি আসক্ত হয় এবং অন্য লোকেদের আরও বেশি ভয় পেতে শুরু করে।
তাই, আমরা স্পষ্টভাবে দেখতে পাই যে আল্লাহ নবী (সাঃ) এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণ (রাঃ) ইচ্ছাকৃতভাবে সংযম অবলম্বন করেছিলেন, যদিও পৃথিবী তাদের হাতের মুঠোয় ছিল:
"মুহাম্মদের পরিবার দুই দিন ধরে যবের রুটি পেট ভরে খায়নি" সহীহ মুসলিম
৩. পাথেয়
এই যাত্রার পাথেয় হলো: কুরআন, যিকির [আল্লাহর স্মরণ], রাতে জেগে ওঠা [তাহাজ্জুদের জন্য], গোপনে দান, নফল রোজা, সৎকর্মশীলদের সঙ্গ, ইতিবাচক ও নেতিবাচক আদেশ-নিষেধ, এবং জিহাদ-আর এটিই হলো সবকিছুর চূড়া।
নফল ইবাদত অবশ্যই পালন করতে হবে যাতে বান্দা এবং তার রবের মধ্যে বন্ধন আরও শক্তিশালী হয়। নফল ইবাদত আল্লাহর পক্ষ থেকে সাফল্যের ভিত্তি, আর ইবাদতে শৈথিল্য হলো দ্বীনকে ত্যাগ করার লক্ষণ-
"আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নিকটবর্তী হতে থাকে, যতক্ষণ না আমি তাকে ভালোবাসি; আর যখন আমি তাকে ভালোবাসি, তখন আমি তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শোনে..." - বুখারী
৪. আনুগত্য ও একনিষ্ঠতা
জাতির জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক স্তম্ভগুলির মধ্যে একটি হলো অবিচ্ছেদ্য অনুকরণীয় আদর্শের উপস্থিতি, যাদেরকে কেনা-বেচা যায় না। যখন হিন্দু গান্ধী নেহেরুকে ভারতীয় জনগণের সামনে তুলে ধরে, তখন তিনি গর্বের সাথে বলেছিলো,
"আমি তোমাদের সামনে এমন একজন মানুষকে উপস্থাপন করছি, যাকে কেনা যাবে না।"
অনেক মানুষ তাদের দেশ, তাদের ধর্ম এবং তাদের জাতিকে একটি সস্তা মূল্যে বিক্রি করে দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক, যিনি ব্রিটিশদের সাথে একটি চুক্তি করেছিলেন, যা ব্রিটিশদেরকে ফিলিস্তিনে চারটি তুর্কি সেনাবাহিনীকে পরাজিত করার অনুমতি দেয়, যিনি খেলাফত বিলুপ্ত করেছিলেন এবং একটি রাষ্ট্রপতির চেয়ারের জন্য ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন।
আমাদের জাতির মধ্যেও এমন অনেক কামালপন্থী আছে যারা একটি রুটির টুকরো বা স্বীকৃতির একটি শব্দের জন্য বা এক গ্লাস [মদ] বা একজন পতিতার জন্য এটিকে বিক্রি করে দিয়েছে। অনেকের মনে আনুগত্য ও একনিষ্ঠতার অভাব তাদেরকে এমন ব্যক্তিদের অনুসরণের দিকে ধাবিত করেছে যারা তাদেরকে জাহান্নামের গহ্বরে নিয়ে গেছে।
হে আল্লাহ, সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আপনার, আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার কাছেই তওবা করছি।