ব্রিটিশরা চলে যাবার পর, তাদেরই রেখে যাওয়া ওয়েস্টমিনিস্টার গণতন্ত্রের (প্রধানমন্ত্রী শাসিত সংসদীয় গণতন্ত্র) আদলেই ১৯৪৭ সালে ভারত, পাকিস্তান এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সরকার গঠিত হয়। আমরা জানি বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান সরকার তিনটি বিভাগ নিয়ে গঠিত হয়- ১) নির্বাহী ২) আইন ও ৩) বিচার বিভাগ।
√ নির্বাহী বিভাগ, যার নের্তৃত্বে মন্ত্রীসভা ও প্রেসিডেন্ট। সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবিভাগের অধীনে। যেমন- সামরিক বাহিনী, আমলাতন্ত্র, এনবিআর, দুদক, ইলেকশন কমিশন ইত্যাদি।
√ আইন বিভাগ বা সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃত্বে।
√ বিচার বিভাগ, প্রধান বিচারপতির অধীনে।
তন্মধ্যে, কেবল আইনবিভাগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়। আর নির্বাহী বিভাগের অধীনে থাকা বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন, উপজেলা, ওয়ার্ড ইত্যাদি) জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়।
আরো অনেক কথা বলা যায়। সংক্ষেপে বাংলাদেশ সরকারের সাংগঠনিক কাঠামো এরূপ।
অত:পর,
এখন ইসলামী রাস্ট্রের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে গিয়ে জামাতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধাণ তাত্ত্বিক উস্তাদ আবুল আলা মওদুদি রহ. বলেন-
"ইসলামের মহান আদর্শের ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় অট্টালিকা তার মূল ও কান্ড থেকে আরম্ভ করে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর শাখা প্রশাখা পর্যন্ত প্রতিটি বিষয়ে ধর্মহীন রাষ্ট্র (Secular States) থেকে সম্পূর্ণ ভিন্নতর হয়ে থাকে। তার গঠন প্রক্রিয়া, স্বভাব প্রকৃতি সবকিছুই সেক্যুলার রাষ্ট্র থেকে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার জন্যে প্রয়োজন এক বিশেষ ধরণের মানসিকতা। এক স্বাতন্ত্রধর্মী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। এক অনুপম কর্মনৈপূণ্য।
এ রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী, পুলিশ বাহিনী, কোর্ট কাচারী, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, আইন কানুন, কর ও খাজন পরিচালনা পদ্ধতি, পররাষ্ট্রনীতি, যুদ্ধ, সন্ধি প্রভৃতি সব বিষয়ই ধর্মহীন রাষ্ট্র থেকে সম্পূর্ণ ভিন্নতর। সেক্যুলার রাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি ইসলামী রাষ্ট্রের কেরানী, এমনকি চাপরাশী হবারও যোগ্য নয়। সে রাষ্ট্রের পুলিশ ইনস্পেক্টর জেনারেল (ওএচ) ইসলামী রাষ্ট্রের একজন সাধারণ কনস্টেবল হবারও যোগ্যতা রাখেনা। ধর্মহীন রাষ্ট্রের ফিল্ড মার্শাল এবং জেনারেলরা ইসলামী রাষ্ট্রে সাধারণ সিপাহী পদেও ভর্তি হবার যোগ্যতা রাখেনা। তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইসলামী রাষ্ট্রে কোনো পদ পাওয়া তো দূরের কথা, তার মিথ্যাচার, ধোকাবাজি এবং বিশ্বসাঘাতকতার কারণে হয়তো কারাগারে নিক্ষিপ্ত হওয়া থেকেও সে রক্ষা পাবেনা।
মোট কথা, ধর্মহীন সেক্যুলার রাষ্ট্র পরিচালনার উপযোগী করে যেসব লোক তৈরি করা হয়েছে এবং সে ধরণের রাষ্ট্রের স্বভাব প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে নৈতিক ও মানসিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে, ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তারা সম্পূর্ণ অযোগ্য। ইসলামী রাষ্ট্রের নাগরিক, ভোটার, কাউন্সিলার, কর্মকর্তা, সিপাহী, জজ, ম্যাজিস্ট্রেট, বিভিন্ন বিভাগীয় কর্মকর্তা, সেনা প্রধান, রাষ্ট্রদূত, মন্ত্রীবর্গ, মোটকথা নিজেদের সমজা জীবনের প্রতিটি বিভাগ, পরিচালিকা যন্ত্রের প্রতিটি অংশ সম্পূর্ণ নতুনভাবে নিজস্ব আদর্শের ভিত্তিতে ঢেলে সাজাতে হবে।
("ইসলামী বিপ্লবের পথ" শীর্ষক বই থেকে গৃহীত)
এখন আমি বলি,
বাংলাদেশ সরকার (যা নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত) যে অবস্থায় আছে, সেই রাস্ট্রের এমন আমূল বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা কি ৩০০ আসন লাভ করেও সম্ভব?!
শুধুমাত্র সংসদীয় গণতন্ত্রে অগ্রসরমান হয়ে -মাওলানার বক্তব্য মোতাবেক- রাস্ট্রযন্ত্রের আমূল পরিবর্তন যে অসম্ভব তা সাধারণ মানের রাজনীতি-সচেতন ও শিক্ষিত লোকেরও বোঝার কথা। তাই শরিয়াহ তো বটেই, নিজ বোধবুদ্ধির সাথে প্রতারণা না করে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সেক্যুলার রাস্ট্রকে ইসলামী রাস্ট্রে পরিণত করার দাবী করা আসলে অসম্ভব। আল্লাহই ভালো জানেন।
এছাড়াও অনেক গণতান্ত্রিক তাত্ত্বিকদের পক্ষ বলা হয়ে থাকে"গণতন্ত্র শুরা ব্যাবস্থার অস্থায়ী বিকল্প হতে পারে।"
এটি একটি প্রচলিত কথা। একটি জনপ্রিয়, নিস্ক্রিয়তামুখী ওজর। এবং অজ্ঞতাপ্রসূত, কাল্পনিক বক্তব্য।
এমন বক্তব্যের সাধারণ কারণ হিসেবে বলা হয়,
"মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাস্ট্রের অধিকাংশ জনগণের নির্বাচিত নের্তৃস্থানীয় প্রতিনিধিরা সংসদে জমা হয় এবং পরামর্শ ও আলোচনা সাপেক্ষে অধ্যাদেশ ও আইনের মাধ্যমে রাস্ট্র পরিচালনা করে- তাই একে 'শুরা'র মতই বলা যায়।"
প্রথমত, গণতন্ত্র বলতে মূলত বোঝানো হয় সাংবিধানিক গণতন্ত্রকে। এটি এমন এক ব্যবস্থা, যা একটি সুনির্দিষ্ট শাসনকাঠামোকে ধরে রাখে। আর সেই শাসনকাঠামোটি হচ্ছে, সেক্যুলার রাস্ট্র। সেক্যুলারিজমের ভিত্তির উপর রচিত সংবিধানকে কেন্দ্রে রেখেই সংসদ আবর্তিত হয়। পপুলিস্ট, ডানপন্থী বা ইসলামপন্থীরা যদিও নিজেদের সেক্যুলার দাবী করে না, তথাপি রাস্ট্রীয় ক্ষমতায় তারা এই কাঠামোর বাইরে যেতে সক্ষম না। সংসদে আসলেও, তারা সেক্যুলার ব্যবস্থাকেই কেবল শক্তিশালী করার কাজে নিজেদের মেধা, শ্রম ও সময় ব্যয় করেন, করবেন।
এ বাস্তবতা বিবেচনা করার পর প্রশ্ন আসে-
উপকরণ কি উদ্দেশ্য হতে পারে?
মাশোয়ারা করা হলেই কি সেটা শুরা হবে?
মাশোয়ারা যদি দীনের মাসলাহাতে না হয়ে
সেক্যুলার শাসনের শক্তিশালীকরণে হয়, তাহলেও কি সেটা "শুরা" হবে?
তাহলে একই দলীলে, বিয়ের দরকার কী? যিনার মাধ্যমেই তো প্রয়োজন পূরণ ও সন্তান উৎপাদন সম্ভব।
ক্রিটিক্যালি চিন্তা করতে গিয়ে সরল চিন্তা ভুলে যাওয়াটাই কেমন যেন এখন সবচেয়ে বড় বিপদে পরিণত হয়েছে। আল্লাহর কাছেই আশ্রয়। দিন শেষে ফলাফলের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত আসে, আভ্যন্তরীণ জগতের “রুহানী ঢেউ” বা অতিবিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রাপ্ত কোনো মাসলাহা ধর্তব্য হয় না।
গণতন্ত্রকে যারা কেবল সরকার পরিবর্তন প্রক্রিয়া মনে করেন, তারা এক্ষেত্রে ভুল করেন। আর যারা একথাটি জেনেশুনে বলেন, তারা হয় প্রতারণার শিকার বা প্রবঞ্চনার বাহক।
দ্বিতীয়ত, এক অর্থে কোনো রাস্ট্রই আসলে গণতান্ত্রিক না। আর হওয়া সম্ভবও না। জনভোটে নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছার পূর্ণ প্রতিফলন কখনোই এসব রাস্ট্রে সম্ভব না।
চলমান রাস্ট্রীয় কাঠামোর মূল অংশ ধরা যায়-
ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক দলসমূহ, আমলাতন্ত্র বা সিভিল সার্ভিস (যার রয়েছে বহুমুখী স্বার্থ ও শাখাপ্রশাখা), সামরিক বাহিনী ও বিচার বিভাগ। আর এই বিশাল ও মারাত্মক প্রভাবশালী কাঠামোটির কোনো অংশই নির্বাচিত নয়, বরং নিয়োগপ্রাপ্ত।
ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বা বিরোধী দল চাইলেও শাসনযন্ত্রের উঠানামায় অন্যতম নিয়ন্ত্রক অংশগুলোকে উপেক্ষা করতে পারে না। বরং, অধিকাংশ পলিসি নির্ধারণে সিদ্ধান্ত হয় তাদের স্বার্থ ও উদ্দেশ্যকে সমুন্নত ও অক্ষুণ্ণ রেখেই। এর অনেক উদাহরণ আমাদের নিজেদের দেশেই আছে।
'৭১ এর পর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ও ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মুজিব সরকার, ব্রিটিশ উপনিবেশিক ধারায় গড়ে ওঠা নিপীড়নমূলক আমলাতন্ত্রিক কাঠামোর কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। যদিও, পাকিস্তান আমলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচীর অন্যতম ছিল, ব্রিটিশ আদলে গড়ে ওঠা উন্নাসিক আমলাতন্ত্রের পরিবর্তন ঘটানো!
'৯৬ এ প্রথম জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপিকে পুনরায় নির্বাচন দিতে বাধ্য করা হয়। এর পেছনে অন্যতম ভূমিকা রাখে 'জনতার মঞ্চ'কে কেন্দ্র করে, ডাকসাইটের আমলা নেতা, প্রাক্তন সচিব মহিউদ্দিন খান আলমগীদের নের্তৃত্বে সচিবালয়ের বড় একটি অংশের বিদ্রোহাত্মক অবস্থান!
আর অজস্র সেনা অভ্যুথানের সাক্ষী বাংলাদেশীদেরকে সেনাবাহিনীর প্রভাব ও দাপটের কথা খুব বেশি কিছু বলার নেই।
পাশাপাশি ২০১৭ তে এস কে সিনহার জুডিশিয়াল ক্যুয়ের ব্যার্থ প্রচেষ্টাও আমাদের প্রত্যক্ষ করার সুযোগ হয়েছে।
কাজেই শাসনযন্ত্রের প্রধাণতম কয়েকটি নিয়ামক—আমলাতন্ত্র, বিচার বিভাগ ও সেনাবাহিনী (যাকে একত্রে ডিপ স্টেইট বলা যায়)- জনগণের ভোটে নির্বাচিত না।
জেনে রাখা ভালো,
সহকারী সচিব থেকে নূন্যতম প্রভাবসম্পন্ন
অতিরিক্ত সচিব বা সচিব হতে ৩০ বছর লেগে যায়।
সহকারী জজ বা দক্ষ আইনজীবি থেকে সুপ্রীম
কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হতেও ২৫-৩০ বছর লেগে যায়।
সেকেন্ড লেফট্যনেন্ট থেকে নূন্যতম
প্রভাবসম্পন্ন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হতেও লাগে প্রায় এমনই
দীর্ঘদিন সেক্যুলার সরকারের অনুগত থাকা এসব কর্মকর্তাদের রাতারাতি ইসলামী সরকারের অনুগত বানানোর প্রক্রিয়া তাহলে কী হবে? এটাও জানা দরকার।
গণতন্ত্রপন্থীরা যেহেতু আকস্মিক আঘাত বা ঢালাও পদচ্যুত করার নীতিতে যেতে পারবেন না, সেক্ষেত্রে এ ময়দানে তারা আসলে কোনোদিনও সফল হতে পারবেন না।
যারা যুগের পর যুগ সেক্যুলার আইনকানুনের মাধ্যমে মাত্রাতিরিক্ত বেতন-ভাতা আর ওয়ারেন্ট অফ প্রিসেডেন্সির আলোকে অধীনস্তদের চাটুকারিতা আর বিলাস-ব্যাসন উপভোগ করতে অভ্যস্ত, তাদের বিরুদ্ধে গিয়ে শুধু শুধু সংসদে অধ্যাদেশ আর আইন পাশ করে কিভাবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব?
তুরস্ক যেখানে সামরিক অভ্যুথানের অজুহাতে ৩০,০০০ সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী পদচ্যুত করেও শরিয়া বাস্তবায়নের ধারেকাছেও যেতে সক্ষম হলো না, সেখানে এ দেশীয়দের ভবিষ্যৎ কী, তা সহজেই অনুমেয়। জামাতে ইসলামী এই ডিপ স্টেইটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের কিছু চেষ্টা করেছে এবং ব্যর্থ হয়েছে। অনুসন্ধান করে দেখা যেতে পারে, তাদের হতভাগ্যজনক ফলাফলের ব্যাপারে।
সামান্য কিছু ব্যাক্তির স্বার্থ আর মতের কাছে কুক্ষিগত এই শাসনব্যাবস্থাকে বাহ্যত গণতন্ত্র বলা হলেও, এটি বাস্তবে অলিগার্কি বা অভিজাততন্ত্র। যারা বলেন, ভোটের মাধ্যমে সংসদে গেলে পরিবর্তন সম্ভব, তারাও অগণতান্ত্রিক দেনদরবারের মাধ্যমে সেনাবাহিনী ও আমলাতন্ত্রে প্রভাব বিস্তার না করে ক্ষমতায় আসতে সক্ষম হবেন না।
তাই, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে "শুরা" সাব্যস্ত করা বুদ্ধিজীবী ও বিশ্লেষকদের প্রতি নিবেদন হল, শরঈ পর্যালোচনা, সমালোচনা যদি আপনাদের কাচে অতিসরল, গৎবাঁধা ও 'ক্রিটিক্যালি থিংকিং'মুক্ত মনে হয়; তাহলে অন্তত বাস্তবতার আলোকে হলেও গণতন্ত্রে সাথে তুলনা করে "শুরা" নামক ইসলামী পরিভাষাকে বিকৃত করা থেকে আপনাদের বিরত থাকা দরকার।
মোটকথা, সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ জাতীয় সংসদের ৩৩০টি আসনের সবকটিও যদি ইসলামপন্থীরা অর্জন করে, তবু এভাবে আমাদের রাস্ট্রব্যাবস্থার ইসলামীকরণ কখনই সম্ভব না।
যেহেতু সেক্যুলার ডিসিপ্লিনের আলোচনা গনতান্ত্রিক ইসলামপন্থীরা বিশেষ গুরুত্ব দেন, তাই মাওলানা ভাসানির হক কথা থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে শেষ করছি-
"প্রতিটি রাস্ট্র বিপ্লবের অর্থ হচ্ছে সাবেক রাস্ট্রযন্ত্রকে ভেঙে সম্পূর্ণ নতুন ভিত্তি ও মূল্যবোধ দিয়ে নতুন রাস্ট্রের পত্তন করা। অতীতের আইন-কানুন, অর্ডিন্যান্স, অর্ডার সবকিছু বর্জন করে সম্পূর্ণ বিপ্লবী রীতিতে নতুন ভিত্তি রচনাই হোল বিপ্লবী সরকারের করণীয়।"
(হক কথা, ১৭ই মার্চ, ১৯৭২)
অতএব, বাংলাদেশে ইসলাম বা বিপ্লব কোনোটাই যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সম্ভব না- তা শরঈ, বাস্তব ও ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত।