বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

 

কেউ আপনাকে বলেন: 'অমুকের কোনো কাজ নেই'।

আপনি জিজ্ঞেস করেন: 'কেন তার কাজ নেই?'

তিনি বলেন: 'আরে ভাই, তিনি তো অভ্যর্থনায় বসে থাকেন, শুধু তরুণদের রিসিভ করেন আর তাদের ব্যবস্থাপনার কাজ করেন, এই আর কি'।

আচ্ছা, এটা কী? এটা কি কোনো কাজ নয়? যদি তিনি উপলব্ধি করতেন যে, তিনি আল্লাহ তাআলার সাথে মুয়ামালা করছেন (সম্পর্ক গড়ছেন), চাই তিনি সবচেয়ে বড় কাজেই থাকুন কিংবা সর্বনিম্ন কাজেই থাকুন; ফলাফল তো একটাই-তিনি মহান আল্লাহ তাআলার সাথে মুয়ামালা করছেন। আল্লাহ তাআলার সাথে মুয়ামালা! যখন তার দায়িত্ব এই জায়গায় এসে পৌঁছেছে, তখন এটাই তার কাজ। এটাই তার কাজ, যতক্ষণ না (ভিন্ন কোনো নির্দেশ) তার কাছে আসে।

কিন্তু যখন আপনি এমন লোক খুঁজে পান, যে বলে: 'আমি কাজবিহীন'।

তার এই অবস্থান কি সঠিক? এই (মানসিকতা) আপনাকে ভোগাবে। আপনি দেখবেন, তিনি এই অজুহাতে তার অবস্থানস্থল কিংবা রিবাতের জায়গাটি ছেড়ে দিচ্ছেন যে, তার কোনো কাজ নেই। অথবা (আরেকটি প্রকার হলো), আল্লাহ তাকে জাযা দিন, তিনি কাজ তো করছেন, কিন্তু তার জিহ্বা থামছে না। আপনার বিরুদ্ধে কথা বলা থেকে তিনি থামছেন না; একে পিষছেন, ওর মাংস খাচ্ছেন (গীবত করছেন), ওকে ধ্বংস করছেন আর তার ভাইদের অন্তরকে ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছেন। যখনই আমি তার খেদমতে যাই, কেন (তিনি এমন আচরণ করেন)?

(তিনি বলেন:) 'আরে ভাই, কী করব! আমি তো এখানে বসে থাকতে বাধ্য!'

আচ্ছা, এটাও কি কোনো কাজ নয়? জানেন, আমরা এই সমস্যায় কেন ভুগেছি? (কারণ) ভাইয়েরা নিজেদের (শত্রুর হাতে) সঁপে দিয়েছেন। কেন সঁপে দিয়েছেন?

তারা বলছেন: 'কোনো কাজ নেই'। আচ্ছা, হে ভাই! এখন আপনার পলায়নই তো আপনার সবচেয়ে বড় কাজ। আপনি দৃঢ় থাকুন, হে ভাই! এখন দৃঢ় থাকুন।

আপনাকে খোঁজা হচ্ছে; আপনি গুহায় থাকুন, যেমনটি নবী করেছিলেন। তিনি (সঠিক সময়ের) অপেক্ষা করছিলেন। হাদীসে যেমনটি এসেছে:

". فلما خف الطلب خرج "

"যখন খোঁজাখুঁজি কমে গেল, তখন তিনি বের হলেন।" (সহীহ আল-বুখারী, রিওয়ায়াত নং- ৩৯০৬)

(তো ওই ভাই এমনটি করেছেন) কারণ তিনি বুঝেছেন যে, কাজের জন্য দৃশ্যমান ফলাফল থাকা আবশ্যক। তাই তিনি মনে করেছেন, তার এই (অপেক্ষা করে) বসে থাকা কোনো কাজ নয়।

তিনি আপনাকে বলেন: 'আমি আল্লাহর দ্বীনের খেদমত করতে চাই, আমি কিছু পেশ করতে চাই'।

(আরে!) আপনি নিজের জন্যই কিছু পেশ করুন! আল্লাহ আপনার চেহারা উজ্জ্বল করুন, হে ভাই! ইসলাম এখন আপনার কাছে এটা চায় না (যে আপনি দৃশ্যমান কিছু করুন); ইসলাম আপনাকে এই স্থানেই থাকতে আদেশ করছে।

আপনি ভাবছেন কোনো কাজ নেই? অথচ এটাই তো এখন সবচেয়ে বড় কাজ- 'নিজের দৃঢ়তা ও দ্বীনকে আগলে রাখা এবং সেই ভাইদের মনোবল ধরে রাখা, যারা চারপাশ থেকে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।'

আপনি যে অবস্থানে আছেন, তাতে শত্রুর অন্তর্জালা সৃষ্টি করা (এটাই তো কাজ)।

কিন্তু তিনি 'কাজ' কী, তা-ই বুঝছেন না। তিনি মনে করেন, কাজের জন্য ফল ও ফলাফল থাকা অপরিহার্য। অথচ কাজ হলো, আল্লাহ তাআলা আপনাকে যা করতে আদেশ করেছেন, তা পালন করা। ব্যস... তা থেকে ফল আসুক কিংবা না আসুক।

এরকম আরেকটি চিত্র হলো, কোনো ভাইয়ের এমন অবস্থা যে, তার আসলেই কোনো (দায়িত্বপ্রাপ্ত) কাজ নেই। অথচ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলছেন:

فَإِذَا فَرَغْتَ فَانصَبْ

“অতএব যখনই অবসর পাও, ইবাদতে কঠোর শ্রম করো।” (সূরা আল-ইনশিরাহ, আয়াত- ৭)

অর্থাৎ, তার কাজ আছে। এমনকি সে যদি অবসরও হয় কিংবা নির্দিষ্ট কাজ থেকে ফারেগও হয়ে যায়, (তার মানে এই নয় যে) তার কাজ নেই।

না... তার কাজ আছে।

فَإِذَا فَرَغْتَ فَانصَبْ 

"অতএব যখনই অবসর পাও, ইবাদতে কঠোর শ্রম করো।” (সূরা আল - ইনশিরাহ, আয়াত- ৭)

ইবাদতে দাঁড়ান, আল্লাহর যিকির করুন। মহান আল্লাহর কসম! আমরা এই ক্ষেত্রে আদর্শ ব্যক্তিত্বের অভাব বোধ করি।

তিনি মনে করেন, তিনি যদি সব জায়গায় চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন, তবেই তিনি তার দ্বীনের জন্য কিছু পেশ করতে পারবেন। না, আল্লাহর কসম... মানুষ সেই আদর্শকে দেখুক, যে দাঁড়িয়ে কুরআন তিলাওয়াত করে। হ্যাঁ, মানুষ তাকে দেখুক, সে কীভাবে শূন্যতা ও অবসরের সাথে আচরণ করে।

কিন্তু সমস্যা হলো, মানুষ আপনাকে আদর্শ মনে করে, তারপর সে আপনার কাছে এসে অভিযোগ আর কান্না শোনে। তখন সে আপনার কাছ থেকে আর কিছু গ্রহণ করে না; তার অন্তর ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। আর তখন এই বেচারা, যে কিছুই জানে না, সে কেবল আপনার এই (অভিযোগ-অনুযোগের) পদ্ধতিতেই আপনার অনুসরণ করে; যা আপনার (আমলনামায়) একটি (নতুন) সুন্নত হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়ে গেল।

(এটাই) সবচেয়ে বড় কাজ। আপনার (নির্দিষ্ট) কাজ নেই? হে ভাই, আল্লাহর যিকির করুন! লিখুন, কাজের অভিজ্ঞতাগুলো লিখুন। আপনার কাছে এই যে ভাইয়েরা বসে আছে, তাদেরকে একত্রিত করুন; তাদেরকে নসীহত করুন, ফায়দা (উপকার) পৌঁছান, অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন। কারণ, আপনি যদি কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্কও করতে চান, তা মানুষের সামনে নয়। মানুষকে আদর্শের মাধ্যমে শিখতে দিন। এমন নয় যে, যার মাথায়ই কোনো ভুল (চিন্তা) আসল, সে তা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিল।

ভাববেন না যে, এর হিসাব আপনার ওপর বর্তাবে না। না, আল্লাহর কসম! আল্লাহ তাআলার ইনসাফ হলো, এর হিসাব অবশ্যই নেওয়া হবে। এ কথা বলবেন না যে, 'আমি জাহেল ছিলাম'। আমি জানি আপনি জাহেল ছিলেন। আপনার সামনে শরঈ ওয়াজিব কী? শিখুন! আপনার কাছে আল্লাহর বাণী আছে, নবী-এর হেদায়াত আছে। সীরাত গ্রন্থ হাতে নিন এবং তা পড়ুন। আল্লাহর কসম! আপনি তাতে অন্তরের আরোগ্য লাভের মতো সবকিছু পাবেন।